ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

মনের পশুও কোরবানি দিন ঈদুল আজহায়

অনুরূপ আইচ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। এই দিনে সকল মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহর নামে কোরবানি দেন তাঁর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়।

স্বপ্নের মাধ্যমে ইব্রাহিম নবীকে আল্লাহপাক হুকুম দিয়েছিলেন, সবচেয়ে প্রিয় কিছুকে কোরবানি দিতে।আল্লাহর হুকুম পালনে ব্রত ইব্রাহিম নবী তার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে যান। এতেই মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে চোখ বন্ধ থাকা ইব্রাহিম নবীর ছুড়ির নিচ থেকে ইসমাইলকে সড়িয়ে দুম্বা পশু কোরবানির ব্যাবস্থা করে দেন। এরপর মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহর এই বিধান আরও পোক্ত করা হয় দুনিয়াবাসীর জন্য।

আজ ঈদুল আজহার দিনে বাংলাদেশ অতিক্রম করছে কঠিন এক সময়। একদিকে দেশের বড় একটি অঞ্চল বন্যা দূর্গত। অন্যদিকে ডেংগু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের নিত্য নানা সমস্যা তো রয়েছেই।

এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়, পরম আল্লাহর ইবাদত করা। পবিত্র কোরআন বিশ্বাসে গেঁথে প্রতিটি মানুষের মনের পশুও কোরবানি দিতে হবে ঈদুল আজহার দিনে। যেমন, গিবত গাওয়া, নিজের ইনকাম বাড়াতে অযথা অন্যের ক্ষতি করা, উঠতে বসতে মিথ্যা বলা, চাপা মারা, নেশা করা, শরীরের গোপনীয়তা প্রদর্শন করে পোশাক পড়া, গরীবের হক মেরে খাওয়া, নিজেকে অনেক ক্ষমতাবান ভাবা, অহংকার করা- ইত্যাদি পরিত্যাগ করার শপথ করতে হবে সবাইকে। তবেই হয়ত ঘরে ঘরে এত রোগ, শোক, যন্ত্রণা বা অপ্রাপ্তির হাহাকার থেকে মানুষকে রক্ষা করবেন মহান আল্লাহ।

তাই আসুন, শুধু নিজের স্বার্থে মেতে না উঠে পরোপকার করার মন গড়ে তুলি সবাই। অন্যের উপকারে 'সেক্রিফাইস' করার নামই মনের পশুর কোরবানি। এটাই মহান আল্লাহ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন পবিত্র আল কোরআনের মাধ্যমে এবং ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির মাধ্যমে।

পশু কোরবানি শুধু মাংস খাওয়ার উৎসব নয়। এটি হোক, মন ও শরীরের পশুত্ব দূর করার উৎসব। এই ঈদে চলুন, নিজে মাংস কম খেয়ে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেই সাধ্যানুযায়ী। আর নিজেদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব বা চেনা পরিচিত যারা কোরবানি দেয়ার সামর্থ রাখেন না তাদেরকে বেশি বেশি মাংস উপহার দিয়ে ঈদের আনন্দকে আরও বেগবান করুন।

মনে রাখবেন, আমরা কোরবানি দিই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। কিন্তু আল্লাহ তো আর মাংস খান না। কাজেই আমরা আল্লাহর দরিদ্র বান্দাদের রুহুকে সন্তুষ্ট করলেই আল্লাহ খুশি হবেন। যার যার গৃহ থেকে রোগ বালাই দূর হবে। দূর হবে অনেক অনেক সমস্যা।

এভাবে করে এক একটি করে ঘর সমস্যা মুক্ত হলে, এক একটি মহল্লা,গ্রাম, উপজেলা, জেলা, বিভাগ থেকে শুরু করে গোটা দেশ সুন্দর হবে। সুন্দর হবে দুনিয়া। তখন বাংলাদেশ হবে বিশ্বের আইডল।

লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টেলিভিশন।


oranjee