ঢাকা, রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

মোদীর জয় মানেই কি ভারতে পরিবারতন্ত্রের পরাজয়!

অনুরূপ আইচ ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯

ফাইল ছবি

ভারতের নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটকেই ভোট দিয়ে জয়ী করেছে সেদেশের জনগণ। মানে, নরেন্দ্র মোদী আবারো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। সেদেশের অনেক সাধারণ ভোটার, এই জয়কে শুধুমাত্র বিজেপি’র জয় না দেখে, মোদী’র জনপ্রিয়তার বিজয় হিসেবেও দেখছেন।

ভারতের ভোটের আগে বাংলাদেশে বসে ঠিক ঠাহর করা যাচ্ছিলো না, ভারতে কে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছিল। কারণ, বাংলাদেশের পাশে পশ্চিমবঙ্গতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস খুব জনপ্রিয় হওয়াতে, পুরো ভারতের ভোটের রেজাল্ট আগাম বোঝা কিছুটা কষ্ট হয় সাধারণ বাংলাদেশিদের।

ভারতের জনপ্রিয় মোদী টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন আরো বেশি শক্তি সঞ্চয় করে। তার এই বিজয়ের মাধ্যমে ভারতবাসী আরেকটা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যালটের মাধ্যমে। অর্থাৎ, গান্ধী পরিবারের পারিবারিক দলে পরিণত হওয়া কংগ্রেসকে পছন্দ করছেন না তারা। তাই মোদীর এই বিজয়কে অনেকেই দেখছেন, কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের নীরব রায় হিসেবে।

ভারতে চা বিক্রেতা থেকে দেশের প্রশানমন্ত্রী হয়ে এবং সততা ধরে রেখে নরেন্দ্র মোদী আসলে ঘরে ঘরে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেকোনো সন্তান একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অন্যদিকে কংগ্রেস ভারতবাসীকে দেখিয়েছে, গান্ধী পরিবারের রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যতদিন বেঁচে রবেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় গেলে ততদিন তাদের পরিবর্তে আর কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। বা, সোনিয়া গান্ধী আমলে ভোটে বিজয়ী কংগ্রেস সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী হলেও যে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতে পারেন না দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্ত ছাড়া, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে ভারতের ভোটারদের কাছে।

অন্যদিকে ভারতের নির্বাচনের ফলাফলে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। যতই মোদী বিরোধীরা বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দিক না কেন, ভারতীয়রা আসলে ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাকি জীবন পরিচালনার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তথা ভারতে সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের মাঝে প্রেম হয়ত আরো বেড়েছে তাদের ধর্মের প্রতি, তাই মোদীর এই বিজয়। কিংবা বলা যেতে পারে, ভোটের আগে মোদীর ধ্যান সফল হয়েছে এ বিজয়ের মাধ্যমে।

নরেন্দ্র মোদীর বিজয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মতে, মোদী ফের ক্ষমতায় আসায় আমরা আশা করব এবার তিস্তাসহ দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

এই আশা সকল বাংলাদেশিদেরও। তিস্তা সমস্যা সমাধানসহ আরো নানা বিষয়ে ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে পাশে থেকে সমাধান করে দেবে নিঃসন্দেহে।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি


oranjee