ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ভারতের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে বাংলাদেশীদের

অনুরূপ আইচ ২:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি সচেতন। তাই এখানের রাজনীতিকরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত নিয়ে। ভারত ভ্রমণ, ভারতের শিক্ষা, খেলাধুলা, চিকিৎসার পাশাপাশি সেদেশের রাজনীতি নিয়েও জানার আগ্রহ বিপুল রয়েছে বাংলাদেশীদের।

এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এই ভোটে কি নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসবেন আবার। নাকি রাহুল গান্ধী চমক দেখাবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশের আড্ডাগুলোতেও।

বিজেপি বা কংগ্রেস কে ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের বেশি লাভ এই আলোচনা যেমন হয়, তেমনি ক্ষমতার বদল হলে বাংলাদেশের ম্রিয়মাণ রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনো ফায়দা যে সহজে হবে না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক আড্ডায়।

অবস্থানগত কারণে ভারতের এ নির্বাচনের দিকে এখন বাংলাদেশীদের দৃষ্টি। কারণ বিশ্বের বৃহত্তম এই গণতন্ত্রের কাছের প্রতিবেশি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। যেকারণে ভারতের নতুন সরকারে কারা আসলে বাংলাদেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের হিসেবটা কেমন হবে। আর তাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোন প্রভাব পড়বে কিনা -এমনটায় ভাবনার বিষয় এদেশের সাধারণ মানুষ থেকে, রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ সবারই।

ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এপ্রিল ও মে মাসে মোট সাত ধাপে। ১১ এপ্রিল থেকে ১৯মে’র মধ্যে গঠিত হবে নতুন লোকসভা। ভোট গণনা হবে ২৩ মে। এরপর জানা যাবে বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদি আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন কি না।

ক্ষমতার এ পালা বদলে অবশ্য পাক-ভারত উত্তেজনার বিষয়টিও প্রভাব ফেলবে। তবে প্রিয়াঙ্গা গান্ধীর মাঠে নামাও কতটা সুবাতাস বইবে মোদির দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে অথবা পশ্চিমবঙ্গের মমতার অবস্থান কতটা শক্তিশালী রয়েছে তা নিয়ে বাংলাদেশিদের মনে প্রশ্ন জাগে। এদেশের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতির দিকে। তবে ভারতীয় কূটনীতির একটি বড় বিশেষত্ব হচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে কূটনীতিতে তেমন পরিবর্তন আসে না। তবে বাংলাদেশর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষতায় শুধু ভারতের আস্থাই শুধু অর্জন করেননি, একমাত্র বিশ্বস্ত বন্ধু ও প্রতিবেশীর সম্মানও অর্জন করেছেন।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে এবং নরেন্দ্র মোদী ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে কূটনৈতিক সম্পর্কে মৌলিক পরিবর্তন না আসলেও সম্পর্কের ভাষায় যে পরিবর্তন আসবে তা নিশ্চিত। আর এর সুযোগ নেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দলগুলোও। এটা সবার জানা, যে কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ৷ এমনকি নেতাদের মধ্যেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ আছে৷ তাই কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় না থাকে আর ভারতে যদি বাংলাদেশ বিরোধিতা বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশেও ভারত বিরোধিতা বাড়বে৷

অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের অনেক দেনা-পাওনার হিসাব আছে। সীমান্ত চুক্তি, পানি চুক্তি, ট্রানজিট – এসব নিয়ে কী হবে, তা নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি এই নির্বাচনে প্রাদেশিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারে কতটা প্রভাবশালী হন তার ওপর।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি


oranjee