ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

এখনও আদিম মানুষের মতো চার পায়ে হাঁটে যে পরিবার

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

ছবি : ইন্টারনেট

দক্ষিণ তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রামে আদিম মানুষের মতোই মুখটা উপরের দিকে তুলে চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করে একটি পরিবার। ২১ সদস্যের একটি পরিবারের মধ্যে ৫ ভাইবোন সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাত ও দুই পায়ে ভর করে চলে ফিরে বেড়ান তারা। মেরুদণ্ডে, হাঁটুতে, পায়ে বা কোমরে কোনও গুরুতর সমস্যা না থাকার পরেও সোজা হয়ে দুই পায়ে দাঁড়াতে পারেন না তারা।

২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত এই পরিবার বা এই পাঁচ ভাইবোনের কথা কেউ জানতো না। কিন্তু ২০০৫-এ বিবিসি-র একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তাদের কথা জানতে পারেন অনেকেই। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মস্তিষ্কের স্ক্যান, রক্তের নমুনা পরীক্ষার পরও তেমন কোনও সমস্যাই ধরতে পারেননি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমানায়, দক্ষিণ তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করে এই পাঁচ ভাইবোন। প্রথম এই পরিবারের খোঁজ পেয়েছিলেন তুরস্কের এক বিজ্ঞানী উনের ট্যান। বিজ্ঞানী ট্যান এই পাঁচ ভাইবোনকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করার পর নিজের গবেষণাপত্রে জানান, পাঁচ ভাইবোনের এই ভাবে চলাফেরা করার পিছনে রয়েছে বিপরীত বিবর্তন। যার অর্থ হল, যেমন বানর থেকে বিবর্তনের ফলে ক্রমশ আদিম মানুষ এবং ধীরে ধীরে বর্তমানের সভ্য মানুষে পরিনত হয়েছে, এ ক্ষেত্রে বিবর্তনের ধারা বিপরীতমুখী। তাই এই পাঁচ ভাইবোনের এই অবস্থা। ওই বিজ্ঞানীর নামানুসারে এই পরিস্থিতির নামকরণ করা হয় ‘উনের ট্যান সিন্ড্রোম’।

২০১৪ সাল পর্যন্ত স্থানীয় মানুষ ও গবেষকরা এই ‘উনের ট্যান সিন্ড্রোম’-এর তত্ত্বই মেনে এসেছে। তবে ২০১৪ সালে ‘বায়োলজি জার্নাল প্লাস’ এ ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। উনের ট্যানের তত্ত্ব অস্বীকার করে এই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, বিপরীত বিবর্তনের ফলে নয়, বরং ‘সেরিবেলার হাইপোপ্লাসিয়া’ নামের বিরল জিনগত সমস্যার কারণে সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না তুরস্কের এই পাঁচ ভাইবোন।

বিজ্ঞনীরা জানান, এই রোগে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে সোজা হয়ে দাঁড়ানো একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি কথাবার্তাও জড়িয়ে যেতে পারে।

তবে দুঃখের বিষয়, স্থানীয় মানুষজন এখনও এই পাঁচ ভাইবোনকে দেখলে তাড়া করেন, পাথর ছোড়েন, হাসি-ঠাট্টা কটূক্তিতে উত্যক্ত করেন। তাই এরাও বাড়ির বাইরে তেমন একটা বের হন না। দিনের বেশির ভাগ সময় লোকচক্ষুর আড়ালেই লুকিয়ে রাখেন নিজেদের। তথ্যসূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

এমএস


oranjee