ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

যে দোকান থেকে আতর কিনতেন কবিগুরু ও নেতাজি

গ্লোবালটিভিবিডি ২:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নাখোদা মসজিদসংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিট। এই অঞ্চলকে বলা হয় আতরের সাম্রাজ্য। আর সেখানেই আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে ‘খুদা বক্স ও নবি বক্স পারফিউমার্স’ দোকানটি।

১৮২৪ সালে তৈরি এই দোকানে একসময় আতর কিনতে আসতেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।

জানা গেছে, একসময় নবাবদের মহল থেকে বাঙালি বনেদি বাড়িতে আতরের চল ছিল৷ ঋতু বদলের সঙ্গে আতরের সংগ্রহ বদলাতেন গন্ধবিলাসীরা৷ তবে এ শহরে আতরের ব্যবহার বাড়ে লখনউর নির্বাসিত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ কলকাতায় আসার পর থেকেই৷ ১৮৫৬ সালে নবাব ওয়াজেদ আলি কলকাতায় এসেছিলেন৷ কিন্তু তার আগেই অর্থাৎ ১৮২৪ সালে খুদা বক্স ও তার ছেলে নবি বক্স কনৌজের কারখানা থেকে সুগন্ধি নিয়ে আসেন কলকাতায়৷

রাস্তায় তেমন আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ভোর পাঁচটা থেকে বেচা-কেনা হত৷ সন্ধ্যার মধ্যে বন্ধ হয়ে যেত দোকান৷

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান, প্রয়াত রাজ্যপাল নুরুল হাসান, নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ ও পরে তাংর বংশধরদের আতরের বরাত পেতেন খুদা বক্স৷

খুদা বক্স ও নবি বক্স পারফিউমার্সের নবম বংশধর নেয়াজউদ্দিন আল্লা বক্স ও সফিকুদ্দিন আল্লা বক্স বলেন, ‘আমরা শুনেছি রবীন্দ্রনাথের গোলাপ আর জুঁইয়ের গন্ধ৷ তখন এ শহরেও আতর তৈরি হত৷ বেঙ্গল কেমিক্যালসের উল্টো দিকে ফুলের বাগান ছিল৷ সেখানকার ফুল দিয়ে অনেক আতর তৈরি হয়েছে৷ এখন মুম্বাই, কনৌজ থেকেই আতর আসে৷’

তারা জানান, দামি আতরের বিক্রি এখন খুবই কম। এখন মূলত ৫০ থেকে ১০০ টাকার আতরের চাহিদাই বেশি। এগুলো সব সিন্থেটিক আতর। আসল আতরের অনেক দাম। খাস আতর তৈরিতে চন্দন তেল লাগে৷ যা এখন দামি। ১০ গ্রাম আসল আতরের ন্যূনতম দাম হাজার টাকার মতো৷ চার-পাঁচ হাজার টাকারও আতর আছে৷’

১৪১ বছরের আরও এক পুরোনো রবীন্দ্র সরণির তাজ সুর্মা ও আতর স্টোর্সের মালিক জামালুদ্দিনের দাবি, আতরের ক্রেতা দিন দিন কমছে৷ ফলে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে খস, উদ, গোলাপ, মালতি, মজমুয়ার মতো দামি আতর৷ সূত্র : কলকাতা২৪

এমএস


oranjee