ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী রাজনৈতিক বন্দি কে?

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ছয় বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে আটক করে চীনের কর্তৃপক্ষ। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী রাজনৈতিক বন্দি বলে মনে করা হয়।

এরপর ২৪ বছর তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। আর এই ব্যাপারটি এই ধর্মকে একটি জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

কেন তাকে আটক করা হয়?
তিব্বতের বুদ্ধরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন। যখন এই ধর্মের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ গুরু পাঞ্চেন লামা ১৯৮৯ সালে রহস্যজনক কারণে মারা যান (অনেকে মনে করেন যে, চীনা সরকার তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছে), তখন তার পুনর্জন্ম ছিল কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

১৯৯৫ সালের ১৪ মে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রধান গুরু দালাই লামা ঘোষণা দেন যে, পাঞ্চেন লামার নতুন দেহধারীকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন।

সে হলো তিব্বতের নকচু শহরের একজন চিকিৎসক ও সেবিকা দম্পতির ছয় বছরের ছেলে গিনডু চোকি নিমা।

চীনের সরকার আশা করছিল, দালাই লামার সহযোগিতা ছাড়াই নতুন পাঞ্চেন লামাকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি ১৯৫৯ সালে তিব্বত ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানে প্রবাসী তিব্বতি সরকার গঠন করেন।

সুতরাং গিনডু চোকি নিমা এবং তার পরিবারকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় চীন এবং কিছু অনুগত বুদ্ধ নেতাদের সহায়তায় আরেকটি ছেলেকে পুতুল পাঞ্চেন লামা হিসাবে নির্বাচিত করে।

সাউথ চায়না মনিং পোস্টকে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি এখন চীনের উত্তরাঞ্চলের গ্যানসুতে বসবাস করেন। আরেকটি ধারণা হলো যে, তাকে বেইজিং-এর আশপাশে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।

২০০০ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুক হাউজ অফ কমন্সের বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারণ কমিটিকে বলেছেন, যতবার আমরা গিনডু চোকি নিমার সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছি, চীনের সরকার আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তিনি সুস্থ শরীরে রয়েছেন এবং তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তবে তার পিতামাতা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চান না।

গত সপ্তাহের সর্বশেষ বৈঠকে তারা দুইটি ছবি দেখিয়েছে, যাতে আমরা গিনডু চোকি নিমাকে তার বাড়িতে রয়েছেন বলে দেখানো হচ্ছে। তবে এগুলো আমরা নিজেরা যাচাই করে দেখতে পারিনি।

২০০০ সালে ওই বালকের বয়স হওয়ার কথা ১১ বছর। একটি ছবিতে দেখা গেছে সে টেবিল টেনিস খেলছে। আরেকটি ছবি তার পেছন দিক থেকে তোলা, যেখানে সে ব্লাকবোর্ডে চীনা ভাষায় কিছু লিখছে। ছবিগুলো দেখানো হলেও সেগুলো হস্তান্তর করা হয়নি।

এই লেখার শুরুর ছবিটি এসেছে ফরেনসিক শিল্পী টিম উইডেনের বয়স-অগ্রগতি ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দালাই লামার অনুসন্ধানী দল ১৯৯৪-৯৫ সালে গিনডু চোকি নিমাকে খুঁজে বের করার পর যে ছবি তোলে, সেটিই তার একমাত্র ছবি।

পাঞ্চেন লামার ৩০তম জন্মদিন উপলক্ষে ওই ছবিটিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমান চেহারা বের করার চেষ্টা করেছেন টিম উইডেন।

সাধারণত নিখোঁজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে অনেক ছবি, বাবা-মা বা ভাই-বোনদের চেহারা বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু এখানে শুধুমাত্র একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে বর্তমান চেহারা বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল টিবেট নেটওয়ার্কের জন্য চারবছর আগে এই ছবিটি তৈরি করা হয়। পাঞ্চেন লামার নিখোঁজ হওয়ার বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি তৈরি করা হয়েছিল, যখন তার বয়স হওয়ার কথা ২৬ বছর।

ওই ছবিতে তাকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মতো একটি চাদর পরে থাকতে দেখা যায়, যদিও তিনি এরকম ধর্মচর্চা করার সুযোগ পান কিনা, তার সপক্ষে কোন প্রমাণ নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ/এমএস


oranjee