ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই

গ্লোবালটিভিবিডি ২:০৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু : ভবনের নিচে সারি-সারি বিলাশবহুল গাড়ি। তবে গাড়িগুলো কতদিন রাজপথে নামেনি তা কেউ বলতে পারেননা। আয়ত্ব আর অবহেলায় ধুলোর আস্তর পড়েছে গাড়ির ওপর। দর্শক, বিলাশবহুল এ গাড়িগুলোর মালিক রহস্যময় ব্যক্তি আজিজ মোহাম্মদ ভাই। যাকে নিয়ে আছে নানা গল্প-নানা রহস্য।

বাংলাদেশে আলোচিত ও সমালোচিত এক ব্যবসায়ীর নাম আজিজ মোহাম্মদ ভাই। যিনি প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৯৬ সালে। ওই বছর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তাঁর মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৯৯ সালে খুন হন আরেক চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী। এ হত্যার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে কোন অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা যায়নি। কারণ, দুটি হত্যার ঘটনার সময় তিনি ছিলেন থাইল্যান্ডে। ওই সময় বাংলাদেশে চলচিত্র জগতে একক আধিপত্য ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের। প্রায় ৫০টি’র মতো চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রহস্যময় ব্যক্তিদের মধ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে রয়েছে নানা গল্প, নানা রহস্য।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে এসব গল্পের বেশির ভাগই চলচ্চিত্র জগতের নারী ও নানা ধরণের ব্যবসা কেন্দ্রিক। এসব গল্পের কতটুকু সত্য, আর কতটুকু মিথ্যা তা নিয়ে নানা জনের রয়েছে নানা মত।

যতদূর জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাদের পরিবার ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসে। ধনাঢ্য এ পরিবারটি পুরানো ঢাকায় বসবার শুরু করে। দেশে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং ও সিঙ্গাপুরে তার হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা রয়েছে। বর্তমানে তিনি স্বপরিবারে বসবাস করেন থাইল্যান্ডে। আর বাংলাদেশে তার ব্যবসা দেখাশুনা করেন তার স্ত্রী নওরিন আজিজ। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির কারখানা আবিস্কার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা আমিন হুদার ৭৯ বছরের জেল হয়। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আজিজ মোহাম্মদ ভাইকেও স্পর্শ করে। তবে একইভাবে দেশের বাইরে বসবাস করার কারণ দেখিয়ে তিনি ওই অভিযোগ থেকেও মাপ পেয়ে যান।

বাংলাদেশে বসবাস না করলেও ঢাকার গুলশানে ৫৭ নম্বর রোডে ১১/এ হোল্ডিংয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন প্রাসাদসম বাড়ি। একই হোল্ডিং এ পাশাপাশি দু’টি ভবনের বাড়িটিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা বসবাস করেন। পাশাপাশি দু’টি ভবন হলেও একটি থেকে আরেকটিতে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

রোববার বিকালে আলোচিত এ বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আর এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ক্যাসিনো সামগ্রী ও ভবনের ছাদের এক কোনে সীসা বার থেকে বিপুল পরিমাণ সীসা সামগ্রী উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটককৃত বাড়িটির কেয়ার টেকার নবীন জানান, তিনি গত ৭/৮ বছর ধরে এ বাড়িত কাজ করছেন। তবে তিনি কখনই আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে দেখেননি।

এমএইচএন/এমএস


oranjee

আরও খবর :