ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

আজিজ মোহাম্মদ ভাইর বাড়িতে অভিযান : মদ-সিসা বার ও ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার

গ্লোবালটিভিবিডি ১:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গুলশানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, সিসা বার ও ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রোববার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৫৭ নম্বর সড়কের ওই বাড়িতে অভিযান চলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) ফজলুর রহমান গ্লোবালটিভি বিডিকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ক্যাসিনো সামগ্রী এবং মদ, বিয়ার, সিসা পাওয়া গেছে।’

রোববার বিকেল ৫টার কিছু পরে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ৫৭ নম্বর সড়কের ১১/এ নম্বর হোল্ডিং এ পাশাপাশি দুটি ছয়তলা বিলাসবহুল ভবনে অভিযান চালায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ভবন আলাদা হলেও একটি থেকে আরেকটিতে যাতায়াতের পথ রয়েছে। দুটি ভবনেই আজিজ মোহাম্মদ ভাইর নিকটাত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, একটি ভবনের ছাদের এক কোনে ক্যাসিনো সামগ্রী ও সিসা বার রযেছে। এখানে বাংলাদেশী মুদ্রা এবং ইউ এস ডলারে ক্যাসিনো খেলা হতো এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ওই কমকর্তা জানান।

তিনি বলেন, পাশের ভবনটির চারতলার একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ মদ পাওয়া যায়।

কি পরিমাণ হতে পারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে ফজলুর রহমান বলেন, এ সংখ্যা দেড় থেকে দুই শ' হবে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে ক্যাসিনো বন্ধে ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে র‌্যাবের অভিযানের পর তারা এ ধরনের আরও অভিযান চালিয়ে আসছিল। এরপর অভিযানে নেমেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

তবে রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যখন ওই বাড়িতে অভিযান চালায় তার বহু আগে থেকেই ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেই বেশি পরিচিত। চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে তার নাম এসেছিল।

অলিম্পিকের পাশাপাশি আমবী ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই। তার স্ত্রী নওরীন আজিজ এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শেয়ার কেলেঙ্কারির এক মামলায় গত বছর আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছিল পুঁজিবাজার বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল। তার আগেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন।

রোববারের অভিযানে গুলশানের ওই বাড়ি থেকে দুই তত্ত্বাবধায়ক মো. পারভেজ ও নবীন মণ্ডলকে আটক করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই প্রসঙ্গ আটককৃত নবীন সাংবাদিকদের বলেন, গত সাত-আট বছর ধরে তিনি এখানে কাজ করলেও কখনও আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে দেখেননি।

তিনি জানান, একটি ভবনের চারতলার ফ্ল্যাট আজিজের স্ত্রী নওরীন ব্যবহার করেন।

ওই ভবনের ছাদে সীসা বার, ক্যাসিনোর সামগ্রী পাওয়ার কথা জানান মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ওই ভবনের তিনতলায় থাকেন ওমর মোহাম্মদ ভাই। তিনি সম্পর্কে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা। তার বাবা প্রয়াত রাজা মোহাম্মদ ভাই হলেন আজিজের সহোদর।

ওমরের ফ্ল্যাটেও কয়েকটি মদের বোতল পাওয়া যায় বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, ছাদের সিসা বারটি ওমর মোহাম্মদ ভাই চালাত। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।”

আরেক ভবনের পাঁচ ও ছয় তলায় আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের দুই বোন সখিনা মীর আলী ও নুরজাহান হুদা বসবাস করেন। দোতলায় তৃতীয় তলায় বোনের সন্তানরা বসবাস করে।

আটককৃত আরেক গৃহকর্মী পারভেজ বলেন, তিনি এক মাস আগে এই ভবনের কাজ নিয়ে যোগ দিয়েছেন। তিনি যে ভবনে কাজ করেন সেই ভবনের চারতলার এক পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মদ। ওই ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষগুলো ছিল খালি।

যে কক্ষে মদ পাওয়া গেছে, সেই কক্ষের দিকে যাওয়ার তাদের ‘নিষেধ ছিল’ বলে জানান পারভেজ।

অভিযানের সময় চারতলার যে ফ্ল্যাটে মদ পাওয়া গিয়েছিল, তার বিপরীত ফ্ল্যাটের দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন আজিজ মোহাম্মদের বোন সখিনা মীর আলী।

তিনি পাঁচ তলায় বসবাস করেন জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এই ফ্ল্যাটে (যে ফ্ল্যাটে মদের বোতল পাওয়া যায়) কী আছে, না আছে, তা আমাদের জানা নেই।”

পাশের ভবনের ছাদের সিসা বার সম্পর্কেও কিছু ‘জানা নেই’ বলে দাবি করেন তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলুর বলেন, “যে ফ্ল্যাটটিতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই।”

“ফ্ল্যাট বা ভবনের মালিক যদি এর সাথে জড়িত হয় তাহলে মাদকদ্রব্য আইনে তাদের নামে মামলা হবে।

এমএইচএন/এমএস


oranjee