ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

অনলাইন ক্যাসিনোর টাকা যেত লন্ডনে

সেলিমের আরেক সহযোগি গ্রেফতার

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০১৯

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনলাইনের ক্যাসিনো (ভার্চুয়াল ক্যাসিনো) থেকে অর্জিত টাকার একটি বড় অংশ লন্ডনে যেত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তবে লন্ডনে কার কাছে যেত-তা জানতে তদন্ত চলছে। অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধানের অফিস ও বাড়িতে অভিযান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম। অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনায় আক্তারুজ্জামান নামে সেলিমের এক সহযোগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গুলশান-২ নম্বরে সেলিমের বাড়ি ও অফিসে অভিযানের পর র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রেফতারকৃত সেলিম বর্তমানে কারাবন্দি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনি মামুনকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়িও উপহার দিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এ ছাড়া সেলিম বিভিন্ন সময় লন্ডনে টাকা পাঠিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি। লন্ডনে তিনি কাকে টাকা পাঠাতেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘লন্ডনে কোথায় পাঠাতেন তা জানতে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

সেলিমকে সনাক্ত ও গ্রেফতার প্রসঙ্গে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল আছে। এতে দেখতে পাই, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনে ক্যাসিনো গেমিংয়ে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এরই সূত্র ধরে সেলিমকে সনাক্ত করা হয় বলে জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক। এর পর থেকেই সেলিমকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিলো। এদিকে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর সেলিম দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সোমবার তাকে একেবারে শেষ মুহূর্তে বিমান থেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম র‌্যাবকে জানিয়েছেন কোরীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি অনলাইনে ক্যাসিনো খোলার শিক্ষা নেন। ২০১৮ সালের পি-২৪ এবং টি-২১ হিসেবে দুটি গেমিং সাইট খোলেন। সেখান থেকে তিনি অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন। তার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ওই কোরীয় নাগরিক ও সেলিমের ৫০-৫০ অনুপাতে লাভ ভাগের চুক্তি হয়েছিল।

সেলিমের বাসা ও অফিসে যা পাওয়া গেছে : অনলাইন ক্যাসিনোর দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ নগদ টাকা, ২৩টি দেশের মুদ্রা (যার মূল্য ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা), ১২টি পাসপোর্ট, ১২টি ব্যাংকের ৩২টি চেকবই, একটি বড় সার্ভার, ৪টি ল্যাপটপ এবং দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন ক্যাসিনো কি : অনলাইন ক্যাসিনোর প্রকৃত নাম ভার্চুয়াল ক্যাসিনো। এগুলো খেলতে হলে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এটি ভিসা, মাস্টার কার্ড, বিকাশের মাধ্যমে খেলতে হয়। অনলাইন ক্যাসিনো খেলতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রেখে এটিতে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। কেউ টাকা জিতলে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে। হারলে টাকাগুলো একটি গেটওয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যেত। এ ঘটনায় আক্তারুজ্জামান নামে সেলিমের আরেক সহযোগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত আক্তারুজ্জামান ওই গেমিং সাইটটি চালাত বলে জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

এমএইচএন/এমএস


oranjee