ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

রিয়া বেগমই প্রথম ছেলেধরা বলে সম্বোধন করেছিলেন রেণুকে

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

ফাইল ছবি

নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেণু। স্কুলের প্রধান ফটকের কাছে কয়েকজন অভিভাবককে দেখতে পেয়ে কিভাবে সন্তানকে ভর্তি করানো যায়, তা জিজ্ঞেস করেন তিনি। তখন উল্টো রেণুকেই জিজ্ঞেস করা হয়, কোথা থেকে এসেছেন, বাসা কোথায়, কী পরিচয়? এসব কথার ফাঁকে রেণুকে ছেলেধরা বলে সম্বোধন করেন মোছাম্মৎ রিয়া বেগম ওরফে ময়না। এই রিয়া বেগমই প্রথম রেণুকে ছেলেধরা সম্বোধন করেছিলেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা (২০)।

তিনি ছেলেধরা বলে আওয়াজ তোলার পরই অন্য অভিভাবক ও আশপাশের লোকজন মিলে ১৫-২০ জনের একটি জটলা তৈরি হয়। রেণুকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে। সেখানেও তার নাম-পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং একটি কাগজে তা লিখতে বলা হয়।

এই সময়ের মধ্যে হাজারও লোকজন জড়ো হয় স্কুলের সামনে। পরিস্থিতি চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গেট থেকে ১০-১৫ জন স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে একজন স্কুলের পাশের রাস্তায় সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা (২০)। টেনে হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় আনা হয় রেণুকে। ছেলেধরা অভিযোগ তুলে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) রেণু হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা ও অভিভাবক রিয়া আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দি থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক বলেন, দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।

২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, হৃদয়ের মা-বাবা নেই। সে ওই এলাকার সবজি বিক্রেতা। ঘটনার দিন ওই স্কুলের পাশে সবজি বিক্রি করছিল। ছেলেধরা এসেছে শুনে অন্যদের সঙ্গে হৃদয়ও স্কুলের ভেতরে যায়। রেণুকে বাইরে নিয়ে আসে এবং গণপিটুনি দেয়।

হৃদয় বেশ কয়েকজনের কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিল, যাদের মধ্যে একজন ছিল অভিভাবক রিয়া। ২৫ জুলাই তাকে আটক করা হয়। এরপর রিমান্ডে থাকা হৃদয়ের মুখোমুখি করা হয় রিয়াকে। অভিভাবক রিয়া ঘটনার সময় ছিল বলে শনাক্ত করে হৃদয়। এর আগে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন।

২৫ জুলাই উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে রিয়া খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এএইচ/এমএস


oranjee