ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই শিক্ষক আটক

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

আটক দুই শিক্ষক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিক ছাত্রীকে বছরের পর বছর ধর্ষণের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ২নং ওয়ার্ডে মাদ্রাসা রোড এলাকায় অবস্থিত অক্সফোর্ড হাই স্কুলের দুই শিক্ষক আটক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর একটি দল স্কুলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ক্যামেরা তল্লাশি করে ছাত্রীর সঙ্গে ধারণকৃত লোমহর্ষক চিত্র জব্দ করে র‌্যাব।

গ্রেফতার দুই শিক্ষক হলো, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার ওরফে রফিকুল ইসলাম (৫৫)। তিনি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বাকচর এলাকার বাসিন্দা। অপরজন একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুল (৩০)। তিনি মাদারীপুর জেলা সদরের শিলখাড়া এলাকার বাসিন্দা।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহীন শাহ পারভেজ, উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদ ও হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, অক্সফোর্ড হাই স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে সুকৌশলে বছরের পর বছর ধর্ষণ করে আসছিলো অক্সফোর্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক। ছাত্রীদের সাথে শারীরিক সর্ম্পকের ভিডিও ধারণ করে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলিং করে বছরের পর বছর ধর্ষণ করছিলো তারা।

বিষয়টি এক ভুক্তভোগী ছাত্রী পরিবারকে জানালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়াকে জানালে তিনি পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেন আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য। পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-১১কে বিষয়টি জানালে এডিশনাল এসপি আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাবের সদস্যরা অক্সফোর্ড হাই স্কুলে এসে লম্পট শিক্ষকদের আটক করে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে। আসামীদের মোবাইল ফোনে একাধিক ছাত্রীর সাথে শারীরিক সর্ম্পকের ছবি দেখতে পায় র‌্যাব সদস্যারা। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা কিভাবে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইলিং করে বছরের পর বছর ধর্ষণ করছিলো তার বর্ননা দেন। উক্ত ঘটনাটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী অক্সফোর্ড হাই স্কুলটি ভাংচুর ও শিক্ষকদের গণপিটুনী দেয় এবং লম্পট দুই শিক্ষকের ফাঁসি দাবি করেন।

র‌্যাব-১১ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে লম্পট শিক্ষকদের বাসার কম্পিউটার থেকে ছাত্রীদের আরো অনেক অশ্লীল ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করে। আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এসকেআর/এমএস


oranjee