ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

কনডেম সেলে লোহার গ্রীল ধরে অশ্রুসজল চোখে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন ঐশী

রোজা রাখছেন নিয়মিত, পড়ছেন নামাজ

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

ফাইল ছবি

মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু: তিন দিকে ইটের দেয়াল আর সামনে মোটা লোহার গ্রীল ঘেরা কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেল। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এ কক্ষে (কনডেম সেল) নির্বাক সময় কাটছে বাবা-মায়ের ঘাতক ঐশী রহমানের। ১০ হাত দৈর্ঘ্য আর ৬ হাত প্রস্থের ছোট্ট এ কক্ষের সামনে মোটা লোহার গ্রীল ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় অশ্রুসজল চোখে দাঁড়িয়ে থাকেন ঐশী। কখনও কখনও ফুপিয়ে-ফুফিয়ে কাঁদেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কথা বলেন না।

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাশিমপুর কারাগারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গ্লোবালটিভিবিডিকে বলেছেন, একসময় বখে যাওয়া ও চরম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্থ ঐশী রহমান এবার রমজানে নিয়মিতই রোজা রাখছেন। পাশাপাশি নামাজও পড়ছেন নিয়মিত।

কীভাবে একাকী অন্ধকারাচ্ছন্ন ছোট্ট ঐ কক্ষে ঐশী রহমানের সময় কাটছে এমন প্রশ্নের জবাবে কারাগারে ঐ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রায়ই নির্বাক ও নিস্তব্ধ থাকেন ঐশী। কনডেম সেলে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কথা বলেন না। নাওয়া-খাওয়ার দিকে ঐশী তেমন একটা মনোযোগী নয়।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বাবা-মাকে হত্যার পর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আসার পর প্রথম দিকে তার যে চঞ্চলতা ছিলো ঐশী এখন ঠিক তার উল্টো। এখন তার ভেতর সব সময় একটা অনুশোচনা কাজ করছে বলে মনে করছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখা (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন ঐশী রহমান কাজের মেয়ে সুমিকে নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ঐশী। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এর মধ্যে কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর আইনে এবং ঐশীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অরেকটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেওয়া হয়।

এমএইচএন


oranjee