ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

ঈদ ও ইফতার পার্টির নামে বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদাবাজি

আইজিপি বলেছেন, জিরো টলারেন্স

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৮ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৯

মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু: ঈদ ও ইফতার পার্টির নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও পাড়া-মহল্লার ক্লাবগুলোতে ইফতার পার্টির নামে এ চাঁদাবাজি হচ্ছে। এসব ইফতার পার্টিতে যাদেরকে অতিথি করা হচ্ছে মূলত তাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। আর এসব চাঁদাবাজির নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ঈদের সালাম পৌঁছে দিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে চাঁদা (তাদের ভাষায় ঈদ সালামি) আদায় করা হচ্ছে বলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে সড়ক-মহাসড়েকও বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতরে এক বৈঠকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আইজিপি বলেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে সিসিটিভি স্থাপন, ট্রাক, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন রোধ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন থামানো যাবে না।

আইজিপি মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতর থেকে সব মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ভিডিও কনফারেন্সে মেট্রোপলিটন সদর দফতরসমূহে ডিসি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা এবং রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে রেঞ্জাধীন জেলা এসপি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের অঞ্চলে বিভিন্ন অসাধু ভুঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠন, ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন সমিতি, ভূয়া মানবাধিকার সংস্থা ও নামে-বেনামে সাংবাদিক সংগঠন সময় ভেদে ইফতার পার্টির আয়োজন করছে। আর ইফতার পার্টির নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। আর টাকা না দিলেই বিভিন্ন ঝামেলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অথচ সামাজিক মান-মর্যাদার ভয়ে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা চাঁদা দিয়ে দিলেও কিছু বলতে পারছেন না তারা। এসব বেপরোয়া সংগঠনগুলো ইফতার (পার্টি) আয়োজনের নামে চাঁদা তুলে নিজেদের পকেট ভারী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আগে থেকে সতর্ক থাকায় এ বছর ঈদের আগে রাজধানীতে ছিনতাই ও মলম পার্টির তৎপরতা অনেক কম বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানীতে ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) ক্রাইম জোনগুলোর প্রতিটিতেই ১০-১২টি করে ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে শতাধিক ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, কখনো প্রাইভেট কারে করে তারা শহরজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুযোগ বুঝে পথচারীদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি রয়েছে রাজধানীতে মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির উৎপাত। বিভিন্ন পরিবহন, রাস্তা, হোটেল বা রমযানের ইফতারে কৌশলে মানুষকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তবে এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্য গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলে আছে। আর যারা বাইরে আছে পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা কোনঠাসা হয়ে পড়ায় এবার ছিনতাই, মলম কিংবা অজ্ঞান করে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা কম বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর কেবলমাত্র রমজান মাসেই রাজধানী ঢাকাতেই মলম পার্টি ও অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে থাকেন অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। রাজধানীর অন্তত ৩ শতাধিক স্পটে ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা, যা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। দেদারছে চাঁদাবাজি করে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবছর রমজান মাস শুরু হলেই ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এই ধরনের মৌসুমি অপরাধীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এবারের রমজান মাসেও ঈদকে সামনে রেখে অতীতের মতো অজ্ঞান পার্টি যাতে অভিনব উপায়ে নানা কৌশলে পথচারী, যাত্রীদের কিছু খাইয়ে বা মুখে রুমাল ধরে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য জনগণ, পথচারী, যানবাহন আরোহীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক করে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও প্রথম থেকেই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। এবারের রমজানের শুরুতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে মৌসুমি অপরাধীদের তেমন একটা দেখা যায়নি।


এমএইচএন/এমএস


oranjee