ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

মিরপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাই

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৯

ভোরবেলার ফাঁকা রাস্তা কিংবা মধ্যদুপুরের ব্যস্ত সময়, মিরপুরের বাসিন্দারা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন যখন-তখন। সিসি ক্যামেরা, যানবাহনের ডিজিটাল ও ঢেকে রাখা নম্বরপ্লেট এসব ক্ষেত্রেও শনাক্ত হচ্ছে না ছিনতাইকারী বা তাদের ব্যবহৃত যানবাহনগুলো। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হেঁটে, রিকশায়, বাসে বা নিজের গাড়িতে যেভাবেই আপনি চলেন না কেন, ছিনতাইকারীদের নাগালের বাইরে যাওয়া কঠিন। গুলি করে বা ছুরি মেরে, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে এসে রিকশাযাত্রীদের ব্যাগ ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁচকা টানে পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

২৮ এপ্রিল ২০১৯ এ রাসিব হাসান নামের এক যুবক পুলিশের চাকরিতে দাঁড়ানোর জন্য রাজশাহী'র উদ্দেশ্যে মিরপুর ১ হতে টেকনিক্যাল এর দিকে রিকশা চড়ে যাওয়ার সময় দুপুর ২টার দিকে বাংলা কলেজের বিপরীত পাশে ছিনতাইয়ের শিকার হন ।

এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিকশায় করে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটা এফ-জেড মোটরবাইকে আরোহিত ২ জন ফরমাল ড্রেস পরা ব্যক্তি ছোঁ মেরে যুবকের ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী রাসিব হাসান জানায়, পুলিশের চলমান সার্কুলারের এস.আই পদে দাঁড়ানোর জন্য তার বন্ধুসহ এক রিকশা চড়ে তার যাবতীয় একাডেমিক, প্রোফেশনাল সকল অরিজিনাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট ও আরো মূল্যবান সত্যায়িত কাগজ, ল্যাপটপ, আইডি কার্ড, ব্যাংক চেক / কার্ড, কিছু নগদ অর্থ ,আনুষঙ্গিক এক্সেসরিজ ইত্যাদি নিয়ে যাওয়ার সময় এই ব্যাগটি ছিনতাইকারী ছোঁ মেরে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় চারপাশের লোকজনসহ ছিনতাইকারী হাসতে থাকে যেন ঘটনাটি রেগুলার হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ সময় বাইকের নাম্বারপ্লেট ঢেকে রাখা ছিলো।

পরবর্তীতে তারা টেকনিক্যাল পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে তারা জানায়, এটা খুবই দুঃখজনক, মিরপুর ২ মডেল থানাতে যেয়ে দেখতে পারো কিছু হয় কি। স্বাভাবিক ভাবে এসব ধরা ছোঁয়ার বাইরে ।

এসময় যুবকটি মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে । যদিও পুলিশের বক্তব্য থেকে উঠে আসে, সাধারন এমন ঘটনায় খোয়া যাওয়া জিনিস ফেরত পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবুও যুবকটির আশা তার ল্যাপটপ সহ যত ক্ষতি হইসে হোক কিন্তু সকল সার্টিফিকেটগুলো পেলেও তার সামনের দিনের ভোগান্তি দূর হত ।

অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এমন ঘটনা সনি হল থেকে বাংলা কলেজ পর্যন্ত নিত্যদিন এর ঘটনা। পুলিশ এর আশেপাশেই এমন ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে জনগণ মেনে নিতে শিখে গেছে । বাংলা কলেজের কেন্দ্রীয় নেতাদের ও পুলিশের দায়িত্বহীনতাকেও অনেকে দোষারোপ করছেন।

‘ছোটখাটো’ ছিনতাইয়ের ঘটনা, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত হন। আতঙ্ক স্থায়ী হয়। অফিস বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে মানুষ অহরহই এ রকম ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু থানায় যান না তাঁদের অধিকাংশই । যারা যায় তারাও সফলতার মুখ দেখে খুব কমই ।

এমএইচএন/এমএস


oranjee