ঢাকা, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

ভারতের স্বপ্নভঙ্গ করে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

ছবি : ইন্টারনেট

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্টের বোলিং নৈপুণ্যে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। এ জয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলো কিউইরা।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে কিউইদের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে তোলে ২২১ রান। 

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। বৃষ্টির কারণে রিজার্ভ ডে’তে ম্যাচটি গড়িয়েছে। আগের দিন ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে কিউইরা তোলে ২১১ রান। পরে আর বল মাঠে না গড়ালে ম্যাচের বাকিটুকু গড়ায় রিজার্ভ ডে’তে। ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৩৯ রান।

রিজার্ভ ডে’তে বুধবার (১০ জুলাই) আবারো মাঠে নামে দুই দল। ফিফটির দেখা পান দলপতি কেন উইলিয়ামসন, রস টেইলর। বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হয় ম্যাচের বাকি অংশ। নিউজিল্যান্ড আরও ২৩টি বল খেলার সুযোগ পায়।

১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেন্যুতেই রান চেজ করে জিতেছিল ভারত। ২০০৩ আর ২০১১ বিশ্বকাপের সেমিতে আগে ব্যাট করেছিল টিম ইন্ডিয়া আর ১৯৯৬ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে গিয়ে হেরেছিল ভারত। গ্রুপ পর্বের দু’দলের একমাত্র ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। আর মূল মঞ্চে নামার আগে কিউইদের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছিল কোহলি-ধোনিদের দলটি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রানে বিদায় নেন কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল। আরেক ওপেনার হেনরি নিকোলস ৫১ বলে করেন ২৮ রান। তিন নম্বরে নামা দলপতি উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর জুটি গড়েন। ৯৫ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৬৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন উইলিয়ামসন। জিমি নিশাম ১২, কলিন ডি গ্রান্ডহোম ১৬ রান করে বিদায় নেন। উইলিয়ামসন-নিকোলস জুটিতে আসে ৬৮ রান। আর উইলিয়ামসন-টেইলর জুটিতে আসে ৬৫ রান। টেইলর-নিশাম জুটিতে আসে ২৮ রান। টেইলর-গ্রান্ডহোম জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৩৮ রান।

রস টেইলর একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে টেনে নিতে থাকেন। ৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে আজ আবারো ব্যাটিংয়ে নামেন টেইলর। ৩ রানে অপরাজিত থেকে টেইলরকে সঙ্গ দিতে নামেন টম ল্যাথাম। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে টেইলর রানআউট হওয়ার আগে করেন ৭৪ রান। তার ৯০ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর একটি ছক্কার মার। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে বিদায়ের আগে ল্যাথাম করেন ১১ বলে ১০ রান। একই ওভারের শেষ বলে ফেরেন ১ রান করা ম্যাট হেনরি।

ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে একটি, রবীন্দ্র জাদেজা ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে একটি আর যুভেন্দ্র চাহাল ১০ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। ভুবনেশ্বর কুমার ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান। আর জাসপ্রিত বুমরাহ ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট।

২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান বিদায় নেন দলীয় ৫ রানের মাথায়। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া রোহিত শর্মা ১, গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লোকেশ রাহুল ১, র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ভারতীয় দলপতি বিরাট কোহলি ১ রান করে ফেরেন। দলীয় ২৪ রানের মাথায় ফেরেন ২৫ বলে ৬ রান করা দীনেশ কার্তিক। এরপর ৪৭ রানের জুটি গড়েন রিশব পান্ত-হার্দিক পান্ডিয়া। দলীয় ৭১ রানের মাথায় বিদায় নেন রিশব পান্ত। ৫৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে পান্ত করেন ৩২ রান।

দলীয় ৯২ রানের মাথায় বিদায় নেন হার্দিক পান্ডিয়া (৩২)। মিচেল স্যান্টনারের বলে দলপতি উইলিয়ামসনের তালুবন্দি হওয়ার আগে পান্ডিয়া ৬২ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ৩২ রান। এরপর জুটি গড়েন মহেন্দ্র সিং ধোনি-রবীন্দ্র জাদেজা। দুজনে মিলে তোলেন আরও ১১৬ রান। দলীয় ৪৮তম ওভারে বিদায় নেন ৫৯ বলে চারটি চার আর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৭৭ রান করা জাদেজা। ৭২ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৫০ রান করে ৪৯তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন ধোনি। একই ওভারে বোল্ড হন ভুবনেশ্বর কুমার। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৩ রান। তৃতীয় বলে শেষ উইকেট হিসেবে আউট হন ৫ রান করা যুভেন্দ্র চাহাল।

কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ম্যাট হেনরি ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। ট্রেন্ট বোল্ট ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। লুকি ফার্গুসন ১০ ওভারে ৪৩ রানে তুলে নেন একটি উইকেট। জিমি নিশাম ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। কলিন ডি গ্রান্ডহোম ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।

এমএস


oranjee