ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

মুস্তাফিজের তৃতীয় শিকার হোপ

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

ছবি : ইন্টারনেট

বিশ্বকাপের ২৩তম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছে উইন্ডিজ। এ রিপোর্ট লেখা অবধি, ক্যারিবীয়ানরা ৪৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৯৭ রান।

ইনিংসের শুরু থেকেই উইন্ডিজদের চেপে ধরে টাইগাররা। প্রথম ওভারে মাশরাফি মেডেন ওভার নেন। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ওপেনার ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১৩ বলে কোনো রানই করতে পারেননি গেইল। দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। মেডেন উইকেট নেন সাইফ।

তবে এরপর উইন্ডিজ দলের হাল ধরেন এভিন লুইস এবং শাই হোপ। মাশরাফি-সাইফ আর মোস্তাফিজের পেস বেশ ভালো ভাবেই সামলে নেন এই দুই ক্যারিবীয়। সেই সাথে মিরাজের ঘূর্ণিও বেশ সামাল দেন তারা। ১১৬ রানের রানের জুটি গড়েন তারা। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন ওপেনার এভিন লুইসকে। ব্যক্তিগত ৭০ রান করে সাব্বিরের তালুবন্দি হন তিনি। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার।

শাই হোপ-নিকোলাস পুরান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন আরও ৩৭ রান। সাকিব ইনিংসের ৩৩তম ওভারে এসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। ফিরিয়ে দেন নিকোলাস পুরানকে। ৩০ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ব্যক্তিগত ২৫ রান করে লংঅনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন পুরান। দলীয় ১৫৯ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এরপর ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন শিমরন হেটমায়ার। ২৬ বলে চারটি চার আর তিনটি ছক্কায় করেন ৫০ রান। মোস্তাফিজের করা ৪০তম ওভারে তামিমের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন আন্দ্রে রাসেল। ফিজের জোড়া আঘাতে দলীয় ২৪৩ রানে উইন্ডিজরা পঞ্চম উইকেট হারায়।

দলীয় ২৮২ রানের মাথায় বিদায় নেন উইন্ডিজ দলপতি জেসন হোল্ডার। সাইফউদ্দিনের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়ার আগে ক্যারিবীয়ান দলপতি করেন ১৫ বলে চারটি চার আর ‍দুটি ছক্কায় ৩৩ রান।

সোমবার (১৭ জুন) টন্টনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় ম্যাচটি শুরু হয়। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি।

আগের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন। মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় একাদশে এসেছেন লিটন দাস। এদিকে, কার্লোস ব্রাথওয়েটের পরিবর্তে উইন্ডিজ একাদশে এসেছেন ড্যারেন ব্রাভো।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে উইন্ডিজরা শুরুটা দারুণ করলেও এরপর আর কোনো ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি তারা। আর তাদের মতোই বাংলাদেশের শুরুটাও জয় দিয়েই। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা হয়েছে টাইগারদের। তবে এরপর দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। তাই তো চার ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ৩। নিউজিল্যান্ড আর স্বাগতিক ইংলিশদের বিপক্ষে হারতে হয়েছে টাইগারদের।

কিউইদের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে টাইগাররা হেরেছে মাত্র ২ উইকেটে আর ইংলিশদের বিপক্ষে ১০৬ রানের বিশাল পরাজয়। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ক্যারিবীয়দের আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার, মাঝখানে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি। তারপরে আবার ইংলিশদের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় হার। চার ম্যাচে গেইলদের নামের পাশে ৩ পয়েন্ট।

উইন্ডিজদের বিপক্ষে বাংলাদেশ আছে দারুণ ছন্দে। দুই দেশের শেষ পাঁচ দেখায় উইন্ডিজ মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে আর বাংলাদেশের জয় চারটিতে। এর মধ্যে শেষ চার ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে তাই পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশই।

বিশ্বকাপে হেড টু হেড মোট ম্যাচ: ৪টি, বাংলাদেশ জয়ী: ০টি। উইন্ডিজ জয়ী: ৩টি। পরিত্যক্ত: ১টি। মুখোমুখি দুই দল মোট ম্যাচ: ৩৬টি। বাংলাদেশ জয়ী: ১৩টি। উইন্ডিজ জয়ী: ২১টি। ড্র: ০টি, ম্যাচ পরিত্যক্ত: ২টি।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

উইন্ডিজ একাদশ: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ক্রিস গেইল (সহ-অধিনায়ক), এভিন লুইস, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, আন্দ্রে রাসেল, নিকোলাস পুরান, ওশান থমাস, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল এবং শেল্ডন কটরেল।

এমএস


oranjee