ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

নোয়াখালীর চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য

গ্লোবটুডেবিডি ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৮

নোয়াখালীর চরাঞ্চলে কৃষিতে যোগ হয়েছে নতুন অর্থকরী ফসল সূর্যমুখী। লবনাক্ত আর পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান এখানকার কৃষকরা। তবে বাজারজাত করন, সেচ সংকট আর ঋণ সুবিধা পেলে সূর্যমুখীর মাধ্যমে চরাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে ধারনা কৃষক ও সংশ্লিষ্টজনের।

জেলার সুবর্নচরে চরাঞ্চলের জমিতে অতিরিক্ত নোনা আর সেচ সংকটের কারনে সারাবছর পতিত থাকে অনেক কৃষিজমি। ২০১৫ সালে প্রথম গ্লোব এগ্রোভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানী পরীক্ষামূলকভাবে ৩৫ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু করে। লবন সহিঞ্চু ও কম খরচে ভালো ফসল পায় কোম্পানীটি। এরপর স্থানীয় কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করে সূর্যমুখী চাষ। গেল বছর চাষ হয়েছে ২৭৪ একর। এ বছর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৫ একর।
চরাঞ্চলে পতিত জমিতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হওয়ায় এখানে সৃষ্টি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য । চাঙ্গা হচ্ছে গ্রমীণ অর্থনীতি । একরপ্রতি ৮ হাজার টাকা খরচ করে ফসল বিক্রি করছে ২৪ হাজার টাকায়।
কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় অনেক কৃষক তরমুজ, বাদাম, সয়াবিন চাষ না করে শুরু করেছে সূর্যমুখী চাষ।
এ বছর ফসলে প্রয়োজনমত বৃষ্টি না হওয়ায় ও সেচ সুবিধা না থাকায় ফষলের আকার ও ঘনত্ব কমে যায়। দক্ষিনা বাতাস শুরু না হওয়ায় পোকার আক্রমনে ক্ষতি হচ্ছে ফসল।
সুবর্ণচরের অধিকাংশ কৃষক বর্গাচাষী। জামানত ছাড়া কৃষিঋণ পাচ্ছেনা কৃষক। ঋণ পেলে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষে এগিয়ে আসতো কৃষক।
এ অঞ্চলে সূর্যমুখী নতুন ফসল হওয়ায় বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে কৃষক। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কোম্পানী সূর্যমুখী ক্রয়ে এগিয়ে এলে ভালো মূল্য পাওয়ার আশা কৃষকের। জেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর নোয়াখালী এর উপ-পরিচালক ড. মো: আবুল হোসেন জানান, সূর্যমুখী বাজারজাত করনে সহযোগিতা করবে কৃষি বিভাগ। বর্গা চাষীদের ঋণ সুবিধা পাওয়ার জন্য সরকারের স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। বাজার অনুকূল সুবিধা পেলে নোয়াখালীর চরাঞ্চলের কৃষকের অন্যতম লাভজনক ফসল হতে পারে সূর্যমুখী।


oranjee