ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

চিকিৎসক হয়রানির নেপথ্যে কারা!

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৯

ফাইল ছবি

আনিসুর রহমান: একের পর এক চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ঘটনাস্থল এবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। জনৈক নারী ডাক্তার, বর্তমানে এমডি ফেইজ বি (শিশু) ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত। দুপুরে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি রোগীর লোকজন দ্বারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

রোগীর স্বজন ও তাদের সন্ত্রাসীর হামলায় প্রাণে বাঁচতে নারী চিকিৎসক ডিউটি কক্ষের দরজা আটকে ফোনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ওই নারী চিকিৎসককে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় রোগীর স্বজনসহ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

দুপুরে ইমার্জেন্সির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে ডেটল পয়জনিংয়ের রোগী ইভা (৬ বছর)কে নিয়ে একজন মহিলা এবং ৪ জন পুরুষ ২১০ ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন। ২১০ ওয়ার্ডে এসে রোগীর লোকজন ইভাকে ওয়ার্ডে ভর্তি রাখতে অস্বীকৃতি জানান এবং রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন।

পয়েজনিংয়ের রোগী পুলিশ কেস বিধায় ডাক্তার তাদেরকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা নিতে অনুরোধ করেন কিন্তু রোগীর লোক কিছুতেই এতে রাজি হয় না। চিকিৎসক শিশু ইভার প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন শেষে পয়জনিং-এর রোগীকে আউটডোর বেসিস এ চিকিৎসা নয়, বরং ভর্তি থেকে অবজারভেশন-এর কথা বলতে থাকেন।

একপর্যায়ে রোগীর লোক অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন, ডাক্তারকে মারধর করতে উদ্যত হন এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেন। ডাক্তার তখন আত্মরক্ষার্থে ডক্টরস রুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তার স্বামী ও অন্যান্যদের ফোন করেন। এসময় ওয়ার্ডে কর্মরত মহিলা আনসার এগিয়ে এলে ডাক্তারকে দেখে নেবার হুমকি দিতে দিতে রোগীর সাথে আসা লোকজন ও সন্ত্রাসীবাহিনী ভর্তির কাগজসহ রোগীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

জনৈক ওই নারী চিকিৎসক বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, একজন চিকিৎসক পরম মমতায় একজন অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় । কেননা এতে রোগীর চিকিৎসা সেবার ব্যাঘাত ঘটতে পারে‌। তৃতীয় ব্যক্তির এমন দুর্ব্যবহারের কারণে রোগী ও চিকিৎসক উভয়েরই অধিকার ক্ষুন্ন হয়। একজন রোগীর যেমন চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনই একজন চিকিৎসকেরও রোগীকে প্রোপার ট্রিটমেন্ট দেয়ার অধিকার রয়েছে। শুধু তাই নয় একজন চিকিৎসকের কর্তব্যের মধ্যেই এটি পড়ে। তাই কোনোভাবেই চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবায় কারো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। এমতাবস্থায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান কাজী রিয়াজুল হক।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবহিত আছেন এবং ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন‌। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও গ্লোবাল টিভি অনলাইনকে পরিচালক অবহিত করেন। এ ব্যাপারে 8 জনকে আসামী করে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার দুই নম্বর আসামি মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

এআর/এমএস


oranjee