ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ফুটপাতের শরবতে কিডনি বিকল ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নগরবাসি

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

এম এ কবির: ঘড়ির কাটায় ঠিক দুপুর ১২টা। মাথার ওপরে সূর্যটা ছড়াচ্ছে তীব্র তাপদাহ। ঘামে ভিজে গেছে রিক্সাচালক ফরিদ মিয়া। পুরো কপাল জুড়ে এলোমেলো চুলগুলো বেয়ে দরদর করে নামছে ঘাম। জোরে জোরে নিচ্ছেন নিঃশ্বাস। গরমে এতটাই অসহনীয় হয়ে পড়েছেন তিনি। রিক্সাটা থামিয়ে রাস্তার পাশে একটু জিরিয়ে নিলেন।
 
এরপর রাস্তার পাশের শরবতের দোকান থেকে এক গ্লাস লেবু জল নিয়ে ঢক ঢক করে ঢেলে দিলেন গলা দিয়ে। তারপর আহ! বলে প্রশান্তির ধ্বনি বেরিয়ে এলো তার কণ্ঠ থেকে। দেশজুড়ে যখন গ্রীষ্মের দাবদাহে জনজীবন অতীষ্ঠ। তখন এ গরমে জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া মানুষের প্রাণও ওষ্ঠাগত। তাই এ অবস্থায় শরীরে পানির চাহিদা ও পিপাসা মেটাতে এবং গরমের আরাম পেতে রিকশাচালক ফরিদ মিয়ার মতোই রাস্তার পাশের শরবতের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন পথচারীরা।
 
গলা ভেজাতে নিশ্চিন্তে ঠান্ডা পানিতে চুমুক দিচ্ছেন বেশিরভাগ নিন্ম আয়ের সাধারণ মানুষগুলো। কিন্তু এ শরবত স্বাস্থ্যসম্মত কিনা সেটা নিয়েও যেন ভাবনা নেই কর্মজীবী ও খেটেখাওয়া এসব মানুষের। শরবতগুলো পানে সাময়িক স্বস্তি পেলেও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ মারাত্মক হুমকি রয়েছে এ শরবতে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফুটপাতের এ শরবত পানে কিডনি বিকলসহ ক্যান্সারের মতো রোগেও আক্রান্ত হতে পারে যে কেউই। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর প্রত্যেক শরবই বিক্রি হচ্ছে খোলা ভ্যান গাড়িতে করে।
 
যেখানে এক গ্লাস শরবতের দাম মাত্র পাঁচ থেকে দশ টাকায় বিক্রি করছে বিক্রেতারা। এসব ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতারা যে ফিলটার বক্সে শরবত বিক্রি করছেন, তার বেশির ভাগেরই পানির ফিল্টার করার সরঞ্জাম নেই। আছে শুধু ফ্রেম। তবুও তৃষ্ণার্ত পথচারীরা দেদারসে সেসব শরবত গিলে খাচ্ছে। পানি ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে আখের রস। এসব শরবত ও রসের গাড়ির ওপরেই রাখা হয় বড় বরফ। রাস্তার সব ধুলো গিয়ে এ বরফে আটকে যাচ্ছে। আর তা পানিতে গিয়ে মিশছে। তবুওে মানুষ তা পান করছে।
 
পানি ও বরফ সংগ্রহের বিষয় জানতে চাইলে অনেক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী সরাসরি বিশুদ্ধ জারের পানি কিনে থাকেন বললেও অনেকই আবার টিউবওয়েল বা হোটেল থেকে সংগ্রহ করছে বলে জানান। তবে চিকিৎসকরা বলছে, এসব শরবতের বেশিরভাগই নিষিদ্ধ কেমিক্যাল, স্যাকারিন এবং ফিল্টার পানির পরিবর্তে ট্যাপের পানি ব্যবহার করা হয়।
 
রিকশাচালক ফরিদ মিয়ার কাছে পানি পানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে গরম পড়ছে, তাতে আমাদের মতো মানুষের রাস্তার পাশের এ শরবত কিছুটা শান্তি দেয়। তাই যখন বেশি তৃষ্ণা পায় তখনই গাড়ি থামিয়ে এক গ্লাস শরবত কিনে খাই। তবে এর ভাল-মন্দ সম্পর্কে কিছু জানে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ভালো-মন্দ কিছুই বুঝি না। কষ্টে আর তৃষ্ণাই খাচ্ছি এ শরবত।’
 
শরবত বিক্রেতা মিজান বলেন, আমরা আসলে গরমের আরাম হিসেবে এটা বিক্রি করি ।সাধারণ মানুষ গরমে সস্তির জন্য এটা খেয়ে থাকে। তবে এটা যে ক্ষতি না ভালো এ সম্পর্কে কোন কিছু জানিনা। বিক্রি করলে কিছু টাকা পাই সংসার চলে এটাই আমাদের বড় পাওয়া।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে ডাঃ জহিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাস্তার পাশের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের শরবত নিরাপদ নয়। তাদের শরবতের পানি, বরফ কোথা থেকে আসে তা ঠিক নেই।
 
এ শরবত পান করে পেটের অসুখ, হেপাটাইটিস এ বা বি-সহ নানা রোগ হতে পারে। তবে তীব্র গরমে প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে তা ঠিক। সে পানি হতে পারে লেবু শরবত। কিংবা উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে খাবার স্যালাইন। কিন্তু এসব রাস্তার পাশে থাকা পানি পান করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’
 
তবে বরফ মিশ্রিত এসব শরবতে কিডনি বিকল ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।

আরকে

oranjee