ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নয়া উত্থান ঘটবে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির

গ্লোবালটিভিবিডি ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

ফাইল ছবি

আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নয়া উত্থান ঘটবে প্রতিক্রিয়াশীল তথা দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী রাজনীতির, উল্লেখ করে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং তার পূর্বাপর পাকিস্তান ও দক্ষিনপন্থী সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী, যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এদেশের ছাত্র সমাজ ও ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ছিল অনবদ্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর এদেশের ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতি উল্টো পথে যাত্রা শুরু করলে ছাত্র সংগঠনগুলোর শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্র রাজনীতিতে ধীরে ধীরে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, দক্ষিনপন্থী খুন-গুমের চর্চা অনুপ্রবেশ করতে শুরু করে। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে শিক্ষার্থী নির্যাতন-নিপীড়ন, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি বানিজ্য, ক্যাম্পাস ও হল দখলদারিত্ব বৃদ্ধি হতে থাকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের লেজুরবৃত্তিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের শিক্ষার্থী নির্যাতন-নিপীড়ন, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি বাণিজ্য, ক্যাম্পাস ও হল দখলদারিত্বমূলক চর্চা থেকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও বাইরে আসতে পারেনি। যার ধারাবাহিকতায় এদেশের ছাত্র-জনতা সর্বশেষ বুয়েটে আবরার ফাহাদকে খুন হতে দেখলো।

বিবৃতিতে বলেন, আমরা ছাত্র মৈত্রী আবরারসহ দেশের সকল রাজনৈতিক খুনের বিচার দাবি করছি। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ্য করছি, আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ এবং আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে সমস্ত প্রগতিবাদী, শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনৈতিক চর্চার পথকেও বন্ধ করে দেয়ার জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে বুয়েট প্রশাসন প্রকারন্তে ভাষা আন্দোলন সহ এদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সংগঠনগুলোর অবদানকে অস্বীকার করে উক্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনীতির গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে আর অন্যদিকে সেই সুযোগ নিবে দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং এহেন অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় বরং শিক্ষাঙ্গনে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অন্যথায় বুয়েট ক্যাম্পাস হবে স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-শিবির সহ অন্যান্য সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদী সংগঠনের “কিলিং সেল” গঠনের ক্যান্টনমেন্টে পরিনত হবে। এছাড়াও উক্ত বিবৃতিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট নীতি পরিহার করে সুষ্ঠু, জনহিতৈষীমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ সহ আবরারের খুনি বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতৃত্বকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি করা হয়।

এমএস


oranjee