ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

ছাত্রলীগের অপরাধ সাম্রাজ্য বুয়েট শেরে বাংলা হল

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

আনিসুর রহমান : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শেরে বাংলা হল। শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে পুরো হলজুড়ে। সোমবার রাতে এই হলের ১০১১ নাম্বার কক্ষে থাকা বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ১৭ তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়। আবরার ফাহাদের থাকার কক্ষের ঠিক ওপরে ২০১২ নাম্বার কক্ষে সোমবার রাতে তাকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কক্ষের ভেতর আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে নিথর দেহকে নিচে ফেলে রাখে। শেরেবাংলা হলে শুধু আবরার হত্যাকাণ্ড নয়, গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধান দলের কাছে আসে রীতিমত গা শিউরে ওঠা আরো অনেক তথ্য। যদিওবা ক্যামেরার সামনে এসব তথ্যের বিষয়ে কথা বলতে তেমন কেউই রাজি হননি। এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে পুরো বুয়েট চত্বর ছিল উত্তপ্ত।

জানা যায়, শেরেবাংলা হল নাকি রীতিমত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের টর্চার হলে পরিণত হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারিসহ কথায় কথায় নিরীহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জুলুম অত্যাচার করে আসছিলো বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, শারীরিক নির্যাতন করাসহ বহু অভিযোগ রয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপ দপ্তর সম্পাদক কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুস্তাফা, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল এবং প্রত্যয় মুমিনের বিরুদ্ধে।

বুয়েটের ক্যাম্পাসসহ শেরে বাংলা হল পুরোটাই সিসি ক্যামেরা দ্বারা আবৃত। এসব থাকা সত্ত্বেও কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো নাকি কেউই ছিল না। শেরেবাংলা হল প্রভোস্ট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন বিভাগকে এসব অপরাধের কথা বারেবার জানালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছিল না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পক্ষান্তরে কেউ অভিযোগ দিলে তাকেই নাকি শাসানো হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ হতে। সেই সাথে অভিযোগকারীদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নাকি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো বরাবরই।

গ্লোবাল টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে শেরে বাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কক্ষে থাকা বিদেশি মদের বোতল ও দেশীয় মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৮ দফা দাবির সবগুলোই নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে দাবিগুলো পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন দাবিগুলো মানা হলো তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে চলে যান।

অন্যদিকে শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অপরাধ কর্মকান্ড বিষয়ে উপাচার্যের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এআর/এমএস


oranjee