ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

জাবিতে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে অবরোধ ও বিক্ষোভ

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, সাভার : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন ছাড়াও চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচি।

ধর্মঘটের অংশ হিসেবে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরনো প্রশাসন ভবন অবরোধ করে রেখেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনে কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারেনি। অবরোধের কারণে আজও অফিস কক্ষে ঢুকতে পারেননি প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদেরকে ফিরে যেতে দেখা যায়।

এদিকে, দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বৃহষ্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের (রাষ্ট্রপতি) কাছে উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে যৌক্তিকতা তুলে ধরে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মহামান্য আচার্যকে ফ্যাক্সের মাধ্যমে বর্তমান উপাচার্যকে অপসারণের যৌক্তিতা জানাব। তার দুর্নীতির বিষয়ে তাকে অবহিত করব। আর দুপুরের মধ্যে আমরা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

অপরদিকে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা। ধর্মঘট চলাকালে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপাচার্যপন্থী 'বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ' পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনকে 'উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারী ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ' আখ্যা দিয়ে তাঁদের শাস্তির দাবিতে শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। একই দাবিতে উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে 'দুর্নীতি ও অনিয়মের' অভিযোগ তুলে প্রায় দেড় মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। নির্মিতব্য তিনটি হলে স্থান পুনর্বিবেচনাসহ দুটি দাবি মেনে নিলেও দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি মানছেন না উপাচার্য।

এ কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন আন্দোলনকারীরা। 'সসম্মানে পদত্যাগের' জন্য উপাচার্যকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তাঁরা। এর মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাঁর অপসারণ দাবি করে মঙ্গলবার থেকে ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।

টিএইচটি/এমএস


oranjee