ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

ছাত্রলীগ থেকে পাঁচজনকে বহিষ্কার

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

ফাইল ছবি

মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে পাঁচজনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। অন্য দু’জনকে কেন বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

তবে পদবঞ্চিতরা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হামলার ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের শাস্তি দাবি ও হামলার শিকার নেত্রীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ চার নেতার কাছে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

সোমবার ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের কর্মী সালমান সাদিককে। এর আগেও সংগঠন থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করেই নতুনভাবে তাকে বহিষ্কার করা হল।

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জারিন দিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মুরসালিন অনু, জিয়া হল ছাত্রলীগের সদস্য কাজী সিয়াম ও জিয়া হল ছাত্রলীগের কর্মী সাজ্জাদুল কবীর।

কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার ও জিয়া হল ছাত্রলীগের পরিকল্পনা ও কর্মসূচিবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান শান্তকে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে মধুর ক্যান্টিনের ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে জেরিন দিয়া ঐদিন পদবঞ্চিতদের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে গিয়েছিলেন।
মারধরে সেদিন তিনিও আহত হয়েছিলেন। এই নেত্রী ফেসবুকে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও এনেছিলেন। এছাড়া রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছিলেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন।

রোববার রাতে আওয়ামী লীগের চার জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে দেখা করতে যায় পদবঞ্চিতদের ১১ জনের একটি প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক। তারাই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সার্বিক বিষয়ে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

অন্যদিকে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন-সর্বশেষ কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, অর্থ বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার, দফতর বিষয়ক উপ-সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন, রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক নেতা এবং পাঁচজন হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

গত ১৩ মে ঘোষিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে সর্বশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ ও অবস্থানে থাকা অর্ধশত নেতা বাদ পড়েন।

এএইচ


oranjee

আরও খবর :