ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে পড়ে লেখালেখির হাতেখড়ি: বিপ্লব রেজা

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

বিপ্লব রেজা। প্রকৃত নাম খন্দকার হাফিজুর রহমান। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কবি, গবেষক ও সংগঠক। পিতা খন্দকার রেজাউল করিম। মাতা নাজমা করিম। জন্ম ২০ ফেব্রুয়ারি। ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে মাতুলালয়ে। বেড়ে ওঠা গ্রাম ও শহরের সংস্পর্শে। প্রকৃতি ও মানুষ তার প্রাত্যহিক পাঠ। ছোটবেলা থেকেই আঁকা-আঁকির অভ্যাস। তবে ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা লেখার র্চচা। ভালো লাগে বই পড়তে, ছবি আঁকতে, ভ্রমণ করতে আর আড্ডা দিতে। সময় পেলে লেখালেখি করা হয়। জীবনকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা বরাবরের মতই অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বিপ্লব রেজার কাব্যগ্রন্থ ‘বন্ধু তোমার হাতটি বাড়াও’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি মেলায় এনেছে অন্যধারা প্রকাশন। সাধারণত অক্ষরবৃত্তে লেখা এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মূলত প্রেমজ। প্রেমকে ঘিরেই কবি বিপ্লব রেজার কবিতায় পাঁক খেয়েছে নর-নারীর নানাবিধ মনো-দৈহিক মিথস্ক্রিয়া- যা এক নতুন কাব্যগ্রন্থ রূপে প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলায়।

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
বিপ্লব রেজা: ছোটবেলায় ছবি আঁকতাম। একটু সুযোগ পেলেই কাগজের টুকরায়, খাতায়, বইয়ের মলাটে ও কাঁঠের দরজায় ছবি আঁকা ছিল আমার প্রাত্যহিক কাজ। বিশেষ করেবিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেক প্রোট্র্রিড এঁকেছি। ছোটবেলায় কেউ কবিতা পড়লে মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। ভাল লাগতো।
তবে ২০০১ সালের গোড়ার দিকে সাহিত্য চর্চার শুরু। তখন আমাদের জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে সকালে যেতাম আর সারাদিন বসে বসে বিভিন্ন কবি, লেখক ও সাহিত্যিকের কবিতা ও গল্পের বই পড়তাম। এছাড়া সময় পেলে রাজনীতি, ইতিহাস ও অর্থনীতির বিভিন্ন আলোচনামূলক বই-ম্যাগাজিনও পড়তাম। এসময় রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। তাঁর লেখার ধরণ, লেখার বিষয়বস্তু, উপস্থাপন শৈলী নানাবিধ বিষয় পড়তে ভাল লাগতো। এই সময়টাতে পরিবার থেকে কোন চাপ বা বাধা না থাকায় আমিও এক সময় লেখার প্রতি ঝুঁকে পড়ি। সময় পেলেই লিখি। ভাল লাগলে লিখি। খারাপ লাগলে লিখি। তখনই লেখাটা আমার জীবনের অংশ হতে শুরু করে।

মেলায় এবার কী বই আসছে?
বিপ্লব রেজা: এবারের বই মেলায় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বন্ধু তোমার হাতটি বাড়াও’ প্রকাশিত হয়েছে। যদিও গত কয়েক বছর ধরে লেখা কবিতা নিয়ে তিনটি পান্ডুলিপি তৈরি করে রেখেছি। ছাপাবো ছাপবো করেও ছাপানো হয়নি। অনেকটা নিজেকে অপ্রকাশ রাখার জন্য, অনেকটা অলসতার কারণে। তবে এবার বই প্রকাশ করার বিষয়টিও নিজের ইচ্ছে নয়। প্রিয় মানুষ, বলতে পারেন- আমার কবিতার ভক্ত ও শুভাকাঙ্খিদের অনুরোধে পান্ডুলিপিটি অবরুদ্ধ করার প্রয়াস। বইটির ভূমিকা লিখেছেন জনকণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক শমশের সৈয়দ ও প্রচ্ছদ করেছেন বিখ্যাত প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষ।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন-
বিপ্লব রেজা: মূলত নিজের জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে ক্ষণকাল-সৃষ্ট বা আবিস্কৃত প্রেম, ভালোবাসা ও হৃদয়-দোলাচলগুলোই কবিতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রেমকে উপজীব্য করে লিখিত কবিতাগুলোতে প্রেমের তিক্ত অনুভূতির পাশাপাশি প্রেমের মধুর সান্নিধ্যের বিষয়ও প্রতিনিধিত্ব করে।
কাব্যগ্রন্থটিতে প্রেয়সীর উদ্দেশ্যে ‘বন্ধু তোমার হাতটি বাড়াও’ কবিতায় বলা হয়েছে, “তোমার পরশ কোমল ছোঁয়া, তোমার নিবিড় ভালবাসা, চাই যে মনে চাই যে প্রাণে, দাও গো আমায়- করি আশা”। আবার ‘লাল টিপ’ কবিতায় বলা হয়েছে,“কপালে গাঢ় লাল টিপ, যেন সন্ধ্যা প্রদীপ”। অন্যত্র হৃদয়ের ভেতরের আকাঙ্খা প্রকাশ ঘটাতে, “ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে উড়াই ঘুড়ি অসীম নীলে, ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে সাঁতার কাটি নদীর জলে।” পক্ষান্তরে ক্ষুব্ধ, রুষ্ট হৃদয় প্রেমিকাকে সরাসরি আঘাত দিয়ে বলেছে,“ভালোবাসা শব্দটিও তোমার জন্য নয় একটিবার আজ, কারণ তোমাকে কেবল ঘৃণা করা যায়, ভালোবাসা যায় না।” এমনি আরও অসংখ্য কবিতায় প্রেম ও দ্রোহের প্রকাশ ঘটেছে নানান উপমা ও অনন্য ভঙ্গিমায়। মূলকথা, প্রেম-বিরহ ও ভালোবাসার রক্তলাল এবং ছোট্ট ছোট্ট মধুর ও বেদনা বিধুর অনুভূতির বক্তব্য ফুটে উঠেছে বইটির কবিতায়।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
বিপ্লব রেজা: বইমেলা এক ধরনের বই-উৎসব। যেকোন উৎসবের চেয়ে বইমেলার কদর আমার কাছে বেশি। কারণ এ মেলার মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসুদের নিকট এক ধরণের জ্ঞান চর্চার সুযোগ হয়। মেলার দিনগুলোতে লেখক, সাহিত্যিক ও পাঠকদের পদচারণায় মেলার প্রাঙ্গণ ভরে থাকে। সাহিত্য অনুরাগী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষেরা একটু ভিন্ন স্বাদ পেতে এ মেলায় আগমন করেন। ফলে মেলা স্বার্থক হয়ে উঠে। আর আমি বলব, অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পারস্পারিক সম্প্রীতি বা অর্থনৈতিক বাজার সম্প্রসারণ যেভাবেই বলি না কেন মেলার গুরুত্ব রয়েছে। বইমেলা সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরিতেও সহয়াগিতা করছে।


লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
বিপ্লব রেজা: এইচএসসিতে পড়ার সময় এলাকার সিনিয়র বন্ধু মো: জাফর মোল্লাহ আমাকে একদিন বললেন, ‘তুমিতো পড়ালেখার পাশাপাশি লেখালেখি শুরু করতে পারো’। ঠিক তখনই মনে হলো, কথাটি ঠিক। সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে দিলাম। তবে এর মানে এই নয় যে, তখনের পর থেকে নিজেকে জোর করে কবি হিসেবে দেখতে চেয়েছি বা এখনও চাই। আসলে আমি মনে করি, জাফরের সান্নিধ্য ও অনুপ্রেরণা আমার ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে সাহায্য করেছে। আর আমি সেই সুযোগে পুরোদমে কবিতা ও গল্প লেখা শুরু করলাম। লিখতে গিয়ে দেখলাম, কবিতা যতোটা প্রাণ দিয়ে লিখতে পারি, মানে কবিতায় যতোটা স্বাচ্ছন্দবোধ করি, গল্প বা অন্য কিছুতে তা পাই না। আমার প্রথম কবিতার নাম ‘তরুণ’। আরেকটি কথা বলতে হয়, আমার প্রথম জীবনের কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব বেশি। লেখার বিষয়বস্তু যা-ই হোক না কেন, উপস্থাপনা শৈলী ছিল পুরোপুরি রবির ঠঙ্গে।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
বিপ্লব রেজা: প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দিয়ে যদি সবকিছু বিচার না করা হয়, আমাকে আপনি একজন কবি এবং স্বভাবজাত কবি বলতে পারেন। সুতরাং আমি অতীতে যেমন লিখেছি, ভবিষ্যতেও তেমনি লিখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চাই। লেখাটা আমার স্বভাব। ভাল লাগলে লিখি। খারাপ লাগলে লিখি। লিখতে গিয়ে কখনোই ক্লান্ত বোধ করি নি। তবে কবিতার পাশাপাশি ছোট গল্পেও আমাকে টানে। ইতোপূর্বে বেশি কিছু ছোট গল্প লিখেছি। এমন অনেক কিছু আছে যা কবিতায় প্রকাশ করা যায় না বা কবিতায় না বলে গদ্যে উপস্থাপন সহজ হয়; এক্ষেত্রে ছোট ছোট অনুভুতি নিয়ে গল্প বা ছোট গল্প লেখা হয়। তবে লেখালেখিকে কখনোই পেশা হিসেবে নিতে চাই না। কারণ পেশায় দায়ব্ধতা থাকে। যদি রুটি-রুজির জন্য লিখতে হয়, সেখানে আনন্দ থাকে না। তাই যতদিন বেঁচে আছি মূলপেশার পাশাপাশি লেখালেখি চালিয়ে যাবার ইচ্ছে পোষণ করছি।


এমএস


oranjee