ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

বইমেলায় শাম্মী নাজ সিদ্দিকীর ‘ভূতললৎ’’

গ্লোবালটিভিবিডি ১:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

শাম্মী নাজ সিদ্দিকী মোহনগঞ্জ উপজেলায় নেত্রকোনা জেলায় ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট এম সি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে B.Sc Honors-এ প্রথম শ্রেণি লাভ করেন এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেভেন কলেজ) মৎস্য শাখায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন । তাঁর পিতা মরহুম সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মাতা মরহুমা চৌধুরী নাজমা সিদ্দিকী একজন গৃহিণী ছিলেন । ভাই-বোনদের মধ্যে শাম্মী সর্ব কনিষ্ঠ । বর্তমানে তার পরিবার সিলেটে বসবাসরত।

কথাসাহিত্যিক শাম্মী নাজ সিদ্দিকী একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত তার প্রথম গল্পের বই নিয়ে গ্লোবাল টিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতিক হেলাল।

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
-খেলার ছলে, গল্প বলার ছলে, মনের টানেই আসা। অষ্টম শ্রেণীতে যখন পড়ি, তখন লেখা লিপিবদ্ধ করি অল্প অল্প করে। যেমন-
'হাতি মামার বিয়ে হবে
সবুজ ছাতার সাথে
সবুজ ছাতা রেগে ওঠে
রঙ তার বদলাতে হবে।

হাতি মামার একই কথা
লাল রঙ তার চাই তো যথা।

এভাবেই মুখে বলা, তারপর লিপিবদ্ধ করতে চেষ্টা করতে থাকি।

মেলায় এবার কী বই এসেছে?
‘ভূতললৎ’ নামে একটি গল্পের বই এসেছে এবারের মেলায়।

নতুন বই সম্পর্কে বলুন।
গল্পের বই এটি। নাম ‘ভূতললৎ’। বইটি শিশুতোষ। শিক্ষণীয় ভৌতিক গল্প সংকলন।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
-১০টি গল্প আছে বইটিতে। এগুলোর বিষয়বস্তু এক হলেও গল্পগুলোতে আলাদা অনুভুতি রাখা হয়েছে। বয়স, সময় ও উপলব্ধির ভিন্নতা রয়েছে। গল্প পড়ার সাথে শিক্ষা লাভও হবে।
১০ টি গল্প। তবে প্রতিটি গল্পের আলাদা উপল্পব্ধি রয়েছে ।

আপনার প্রবন্ধ/কবিতা/গল্প বা উপন্যাসের পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
-এই বইটা ৮-১৪ বছরের বয়সের ছেলেমেয়দের কথা মাথায় রেখে লেখা। ভূতপ্রেমীদের জন্য ও যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের সবার জন্য। সব বয়সের জন্য, মৌলিক ও সহজ- সরল ভাষায় লিখিত।
বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন
-কারণ, তখন অনেক পাঠকের মনে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে নতুন বই পাবার। আর প্রকাশকরাও তখনই নতুন লেখকদের সুযোগ দেন। অন্য সময় সেটা পাওয়া যায় না।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই।
-মেলায় নতুন লেখকের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে না। আর সব পাঠক পাঠক হয়ে নয় বরং ফেবু প্রোফাইল রিচ করার জন্য ছবি তোলার নেশায় ব্যস্ত থাকে।
সব মেলায় তো সাধারণত টিকেটের ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু বইমেলায় থাকে না। যদি থাকে, তাহলে অহেতুক ভিড় কমতেও পারে। এতে পাঠকও বাড়তে পারে।

মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা...
-এবারই বেশি সময় মেলায় থাকা হলো। যেহেতু নতুন বই বেরিয়েছে আমার। মেলায় দেখতে পেলাম, বুঝতে পারলাম, লেখার একই বিষয়, কিন্তু পাঠকের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন।

লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
-ছোট বেলায় ঘুমানোর সময় আম্মা কবিতা, ছড়া, গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন। হয় তো তার থেকেই মনে সাহিত্য জন্ম নেয়। তবে নিজ প্রেরণায়ই লিখতে শুরু করি।

আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
-বাংলা সাহিত্যে বইমেলা একান্ত প্রয়োজন। পাঠক সারা বছরে এ সময়টায় হলেও কয়েকটি বই ক্রয় করেন আর নতুন লেখকেরও জন্ম হয় মেলাকে কেন্দ্র করে।

প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
-প্রকাশকদের বইয়ের প্রতি আরও অধিক যত্নশিল হওয়া প্রয়োজন। আর নতুন লেখকদের মানসম্মত লেখা প্রকাশের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
-একটাই। তা হলো, পাঠক নতুন লেখকের বইয়ের প্রাধান্য কম দেন।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
-শুরু করেছি, আরো লিখতে চাই। পাঠক মনে সাহিত্যর রচনা বুনতে চাই।

 

এএইচ/


oranjee