ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

সাহিত্যের মাধ্যমে সাম্যের পথে চলতে চাই: মাহাবুবা লাকি

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

কবি মাহাবুবা লাকির নতুন কবিতার বই। ছবি: গ্লোবাল টিভি

কবি ও কথাসাহিত্যিক মাহাবুবা লাকির জন্ম যশোর শহরের তালতলায়।
পিতা প্রয়াত মোসলেম আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৭১ সালে হানাদার বাহিনী তাদের যশোরের বাড়ি ভস্মস্তূপে পরিণত করলে তিনি খুলনা শহরে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন। সেখানেই মাহাবুবার শৈশব-কৈশোরজীবন কাটে। তার কলেজ জীবন কাটে গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে কাজ করেন। কলেজে পড়াশুনার সময়ই সংসারজীবনে প্রবেশ করেন এবং পড়ালেখা চালিয়ে যান। স্বামী আতিকুর রহমান পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত আছেন। একমাত্র কন্যা রাবেয়া বশরী ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রী। তাদেরকে নিয়েই ঢাকা শহরে স্থায়ী বসবাস।

অমর একুশে গন্থমেলা উপলক্ষে গ্লোবালটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন কবি মাহাবুবা লাকি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতিক হেলাল।

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
-যুদ্ধ দিনের গল্প সবার মুখে শুনতে শুনতে একদিন মনে হল, এগুলি খাতায় লিখে রাখলে কেমন হয়? ঠিক তখন থেকে ভাবনা শুরু। ভেবে নিলাম এসব জীবন্ত কাহিনী না লিখলে ভুলে যাব। বড় হয়ে সবাইকে শুনাতেপারব না। এই চিন্তা থেকেই বলে লেখালেখিতে আসা।
ছোটকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা বাবা, বীর মুক্তিযোদ্ধা চাচা এবং মায়ের মুখ থেকে যুদ্ধদিনের সেসব করুণ কাহিনীশুনতে শুনতে কখন যে কাগজের বুক ভরে ফেললাম, নিজেই জানি না। শুরুটা এভাবেই। তারপর ছড়া,কবিতা, ছোট গল্প, গান চলতেই থাকল। এখনো যা অবিরাম চলছে।

মেলায় এবার কী বই এসেছে?
-এবার মেলায় এসেছে একটি কবিতার বই ‘সুকান্ত এসেছিল নিরবে’। উপন্যাস ‘জীবন যখন অস্তাচলে’।

নতুন বই সম্পর্কে বলুন
-আমার উপন্যাস ও কবিতার বই দুটি ভিন্নমাত্রার লেখা। যা পাঠকের হৃদয় আলোড়িত করবে।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
-আমি মনে করি, প্রতিটি মেয়ের জীবনে নীরবে নিভৃতে একজন সুকান্তের আবির্ভাব ঘটে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করার সময়। কারো জীবনে সে ধরা দেয়, কারো জীবনে দেয় না। সেই সময় যে কাল্পিক সুকান্তের আগমনের অপেক্ষায় কাটে। সেই ক্ষণগুলোর কল্পনায় রূপ এই কবিতার বইটি।
আর উপন্যাসে আমি বুঝাতে চেয়েছি, বর্তমানের উন্নয়নের চিন্তা চেতনায় কত পরিবর্তন আর সময়ের ফিতায় কিভাবে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল উচ্চাশা মা বাবার ভালোবাসা থেকে সন্তানকে কত দূরে নিয়ে যাচ্ছে। আবার, পাশাপাশি বাবা মা অতি শাসন না করে আদর ভালোবাসায় বিপথগামী সন্তানকে সু পথে এনেছেন। একে অন্যে কত সুখে কাটিয়েছে দিন, সেটা দেখানো হয়েছে। অতঃপর জীবনের শেষ সময় এসে উপলব্ধি করেছেন, গাঁয়ের সোদামাটি মাখা সবুজ বনানীর মাঝেই জীবনের পড়ন্ত বিকেলের সময়গুলি পার করবেন।

আপনার প্রবন্ধ/কবিতা/গল্প বা উপন্যাসের পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
-আমার প্রবন্ধ/ কবিতা /গল্প /উপন্যাস বরাবরই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। যা আমাকে আরো লেখার প্রতি মননশীল করেছে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পাঠকের মনের মত লেখার। বাকি আপনাদের মন্তব্য।

বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
-বছরের অন্যদিন বা সময় একসাথে এতো লোকের সমগম কখনো ঘটে না। যা প্রাণের বই মেলায় ঘটে। ২১-এর বইমেলা মানে প্রাণের মেলবন্ধন। আমার কাছে মনে হয় এই সময় অনেকের হাতে বইটি দেওয়া যেমন সহজ হয় অন্য সময় তেমনটি হয় না।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
-বইমেলাকে আমার কাছে মনে হয় বছরে দুটি ঈদের মতো একটি সময়। সারা বছর সবাই ব্যস্ততার মাঝে থেকেও লেখালেখি করে এই দিনটির অপেক্ষায়। তবে যে প্রত্যাশা নিয়ে লেখক বই লেখে তা অর্ধেক পূরণ হয় না। যত লোক মেলায় আসে তত বই বিক্রি হয় না। এর ফলে লেখকের লেখার প্রতি অনিহা বাড়ছে। তাই বেশি করে উৎসাহিত করতে হবে বই পড়তে ও প্রিয় মানুষটির হাতে বই তুলে দিতে।

মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা-
-প্রাণের বইমেলার যে দিকটা আমার কাছে উল্ল্যেখযোগ্য মনে হয়, তা হল দেশ-বিদেশের কবি-লেখদের একটা মিলন মেলা লক্ষ্য করা যায়।

লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে?
-আমার মা এবং স্বামী। মা বলতেন, লিখে রাখো এসব যুদ্ধ দিনের কথা, সন্তানদের শুনাতে পারবে। আর স্বামী সবসময় বন্ধুর মত পাশে থেকে প্রেরণা দিয়েছে এগিয়ে যেতে।
তার অবদানের জন্য আজ আমি এখানে অসতে পেরেছি।

আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
-বইমেলার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। কেননা যে বইটি এমনিতে খুঁজে পাওয়া যায় না, সে বইটি অনায়াসে মেলায় পাই। তাছাড়া নতুন পুরাতন সব কবির বই বের হয়। মেলা ছাড়া এটা সম্ভব না।

প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
-কী বলবো? আমি নিজেই তো একজন প্রকাশক (চিরদিন প্রকাশনী)। আমি প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রকাশনায় এলাম শুধু নিজের বইগুলি যেন ঠিক সময়ে বের করতে পারি, এই প্রত্যাশায়। অনেক প্রকাশক বই নেবার আগে মিষ্টি কথা বলেন, পরে সময় মত বই দেন না। আবার গুণ গত মানও ঠিক রাখেন না। তাই প্রকৃত অর্থে বলতে চাই, আপনারা লেখকের চাহিদা অনুযায়ী মানের দিকটা বিবেচনায় রাখবেন।

কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
-তা তো আছেই। তবে থাক, এসব আর বলে লাভ নেই। যুদ্ধ একা করা যায় না, সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগে। প্রতিটি জেলায় জেলায় পাঠাগার নির্মিত হোক এবং সেসব পাঠাগারে আমাদের সবার লেখা পৌঁছে যাক।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
-লেখার মাধ্যমে সমাজ এবং পরিবেশের সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে চাই। অনেকের ভেতরে যে হিংসুক এক জানোয়ারের বসবাস, তা শেষ করে সবাইকে নিয়ে সাম্যের পথে আলোর পথে এক মিছিলে পথ চলতে চাই।

এএইচ/


oranjee