ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

  • রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে পড়ে লেখালেখির হাতেখড়ি: বিপ্লব রেজা
  • নতুন কিছু করার তাড়না থেকেই শুদ্ধপ্রকাশের যাত্রা: হিরণ্ময় হিমাংশু
  • অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হচ্ছে কাল
  • শেষসময়ে মেলায় বিপুল হাসানের ‘ভয়াল তের’
  • ‘সূর্যতপা সুচিত্রা’ এখন মেলায়
  • বইমেলায় শাম্মী নাজ সিদ্দিকীর ‘ভূতললৎ’’
  • সাহিত্যের মাধ্যমে সাম্যের পথে চলতে চাই: মাহাবুবা লাকি

‘এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা’ গ্রন্থে পাঠক ভিন্নরকম কিছু পাবে: রনি রেজা

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মাহতাব শফি ১২:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

তরুণ লেখক রনি রেজা। জন্ম গোপালঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামে। প্রকৃতির রূপবৈচিত্রে ঘেরা গ্রামটিতেই তার বেড়ে ওঠা। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স করা হলেও বাংলা সাহিত্যে রয়েছে বিশেষ ঝোঁক। ছাত্রজীবনে দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে লিখতেন ফিচার, প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা। সে থেকেই যোগাযোগ গণমাধ্যমের সঙ্গে। একসময় এই সাহিত্যের গলি বেয়েই ঢুকে পড়েন সাংবাদিকতায়। দৈনিক ভোরের পাতা, সংবাদ প্রতিদিন, যমুনানিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম ও আজকের বাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন সহ-সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে। বর্তমানে ডেইলি বাংলাদেশ’র মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অব্যাহত রেখেছেন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় বেহুলা বাংলা প্রকাশ করেছে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা।’। তিনি কথা বলেন নতুন বই, বইমেলা ও তার লেখালেখি নিয়ে।

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
রনি: আমার বিশ্বাস, কোনো লেখকই ঠিক ঠিক দিন তারিখ উল্লেখ করে নিজের সাহিত্যকর্মের শুরুটা বলতে পারবেন না। বা কেউ পরিকল্পনা করে লেখক হয়েছেন, এমনটিও আছে বলে আমার জানা নেই। নিত্যপ্রয়োজন থেকেই সাহিত্য রচনা এসেছে। আমার ক্ষেত্রেও এমনই। বাকপটু স্বভাবের হলেও বড় হয়ে কী হব এমন প্রশ্নে খেই হারিয়ে ফেলতাম বরাবর। একটাই স্বপ্ন ছিল- প্রজাপতি হব। হয়েছিও। যখন যা ইচ্ছে হয়েছে করতে পেরেছি নির্দ্বিধায়। কখনো কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। ছিল না পারিবারিক প্রতিবন্ধকতাও। আড্ডাবাজ এই আমি সহজেই মিলে যেতাম যে কোনো পরিবেশে। তবে বই পড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল প্রচুর। পাঠ্য বইয়ের ভাঁজের ভেতর রেখে পড়তাম গল্প-উপন্যাসের বই। একসময় এক-আধটু করে লিখতে শুরু করলাম। বন্ধুদের শোনাতাম। তারা উৎসাহও দিত। আমি বরাবরই ভাগ্যবান। আশপাশের মানুষগুলো সব সময়ই ভালো পেয়েছি। আমার ভেতরে যত না গতি ছিল শোভাকাঙ্খিদের উৎসাহ তার চেয়ে বেশি গতি দিয়েছে। এভাবেই সাহিত্যের সঙ্গে চলছে।

মেলায় এবার কী বই আসছে?
রনি: একটি গল্পগ্রন্থ এসেছে বেহুলাবাংলা প্রকাশন থেকে। নাম ‘এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা’

নতুন বই সম্পর্কে বলুন
রনি: দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করলেও বই প্রকাশ হচ্ছে এটিই প্রথম। প্রথমের প্রতি সবারই আলাদা মায়া থাকে। সেই মায়া থেকেই সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত ১০টি গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
রনি : আমাদের বাস্তবিক জীবনের এমন কিছু ঘটনা থাকে যা কল্পনাকেও হার মানায়। আবার কল্পলোকেরও অনেক বিষয় আমাদের দৈন্দিন জীবনে লেপ্টে থাকে; আমরা হয়তো বুঝতেই পারি না। এসব বিষয় নিয়েই একটু ভিন্নভাবে কল্পনার প্রলেপ দিয়ে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে ‘এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা’বইটিতে। পাঠক প্রতিটি গল্পেই ভিন্নরকম কিছু পাবে বলে আশা করছি।

আপনার গল্পের পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি
রনি: ভারতচন্দ্র রায়ের একটি পঙ্ক্তি ধার করে বলা যায়- ‘ঘুমিয়ে আছে পাঠক সত্ত্বা সব লেখকের অন্তরে।’ লেখক তো পাঠকের জন্যই সৃষ্টি করেন। পাঠকের হৃদয়ে ন্যূনতম আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারলেই লেখক তৃপ্ত হন। আবার কখন কোন ভাষায় লেখকের মর্মপীড়া ও ক্ষোভ প্রকাশ পায় তা বোঝার সাধ্য সব পাঠকের নেই। লেখকও তা আশা করেন না। তবে কেউ কেউ যে বোঝেন না তাও নয়। কিছু সংখ্যক পাঠকই যুগ যুগ উৎসাহ যুগিয়ে যায় লেখককে।

বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
রনি: বইমেলা বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। অনেক পাঠক থাকে। স্বভাবতই বইও বিক্রি হয় বেশি। আমাদের দেশে তো বই প্রকাশের সঙ্গে বিক্রির একটা বিষয় রয়েই গেছে। এজন্যই মূলত বইমেলায় প্রকাশ করা হয়।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
রনি: মেলা মানেই অনেক মানুষের মিলন উৎসব। আর সেই মিলন যদি হয় প্রিয় বই কেন্দ্রীক; তাহলে তো গতি পায় ভিন্ন মাত্রায়। মেলায় এসে সবাই বই না কিনলেও দোষের কিছু নেই, বরং তাদের অংশগ্রহণটা-ই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। লেখক-পাঠক সবারই গতি বারে এই মেলা কেন্দ্র করে।

মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা
রনি: যখন ঢাকার বাইরে অর্থাৎ গ্রামে এবং পরবর্তীতে পড়াশোনার প্রয়োজনে ফরিদপুর থাকতাম; তখন মেলার উদ্দেশে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আসতে হতো। শত ব্যস্ততা পাশ কাটিয়ে ছুটে আসতাম মেলায়। ২০১৩ সালে ফরিদপুরে থাকতাম। টিউশনির টাকায় চলতাম। ফেব্রুয়ারিতে পড়লো আমার ছাত্রের পরীক্ষা। এদিকে মেলায়ও আসতে হবে। ছাত্রের অভিভাবককে বলায় কাজ হলো না। শেষে টিউশনিটাই ছেড়ে দিলাম। যদিও তখন একটি টিউশনি ছেড়ে আরেকটা পাওয়া অত সহজ ছিল না।

লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
রনি: আমার লেখালেখির দায় দু’জনকে দেব। একজন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; যার প্রতিটি লেখার চরিত্র মিলে যেত আমার বাউণ্ডুলে জীবনের সঙ্গে। আরেকজন কবি অরবিন্দ চক্রবর্তী; যিনি উস্কানি দিয়ে দিয়ে আমার ভেতর থেকে লেখক সত্ত্বা বের করে এনেছেন।

আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
রনি: প্রযুক্তির বিপ্লবসহ নানা কারণে আমাদের বই পড়ার অভ্যাস অনেকটা কমে গেছ ; এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আগে প্রতিটি ঘরেই থরে থরে সাজানো বই পাওয়া যেত। বন্ধুদের আড্ডায় উঠে আসত সদ্য পড়া বইয়ের আলোচনা। কিন্তু এখন সেই অবস্থায় নেই। এটা দুঃখজনক। কিন্তু বইমেলার সময় এটি মনে হয় না। প্রচুর মানুষ মেলায় আসে। প্রচুর বই বিক্রি হয়। অর্থাৎ বইমেলা বইবিমুখ মানুষগুলোকেও বইমুখি করে। কিছুটা হলেও লেখক-পাঠকের মিলন ঘটায়। এসব দিক থেকে আমি মনে করি অবশ্যই বইমেলার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
রনি: লেখকের আত্মপ্রকাশে প্রকাশকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু কিছু সিজনাল প্রকাশক বাণিজ্যের জন্য মানহীন বই প্রকাশ করেন; এসব নিয়মের আওতায় আনা জরুরি। কিছু প্রকাশনীর নির্দিষ্ট সম্পাদনা বিভাগই নেই। অথচ টাকার বিনিময়ে যা-তা প্রকাশ করছে। এতে ভালো বই খুঁজে পেতে পাঠকের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। এসব বিষয়ে প্রকাশকদের সচেতন হওয়া জরুরি মনে করি।

কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
রনি: টাকার বিনিময়ে মানহীন বই প্রকাশের ব্যাপারের আমার মনবেদনা রয়েছে ব্যাপক। এসব বইয়ের কারণে বাংলা সাহিত্যের অনেক পাঠক নষ্ট হচ্ছে।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
রনি: ২০১৯ সালের মধ্যে গণমাধ্যম নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার ইচ্ছে আছে। লক্ষ্য থাকবে ২০২০-এর বইমেলায় প্রকাশ করা। এছাড়া এ বছরটিতে একটি উপন্যাস ও কিছু শিশুতোষ গল্প লেখার ইচ্ছা রয়েছে। হয়তো এর প্রভাবে প্রবন্ধ ও কলাম লেখা কিছুটা কমবে। তবে মাঝে-মধ্যে নিশ্চয়ই লেখা হবে। বাকিটা সময়ের ওপরই ছেড়ে দিলাম।

 

এমএস


oranjee