ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

নানা আয়োজনে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূনের ৭১তম জন্মদিন উদযাপন

গ্লোবালটিভিবিডি ২:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি : নানা আয়োজনের মাধ্যমে গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে আজ জনপ্রিয় লেখক, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এদিনটি উদযাপন করেছে হুমায়ূনের পরিবার সদস্য, ভক্ত ও নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারীরা। 

গেল রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশপল্লীর সকল স্থাপনায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করার মধ্য দিয়ে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমদের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল থেকেই আসতে থাকেন হুমায়ূন ভক্তরা। হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া নুহাশপল্লীতে এবারের জন্মদিনে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে সকলকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়। সকালে সকালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাদের দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিতসহ স্বজন ও ভক্তদের নিয়ে নুহাশপল্লীতে লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে সকলকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

গাজীপুরের নূহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, নূহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদ যাদুঘর নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে এই যাদুঘরের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। আমি যেহেতু স্থপতি তাই আমি নিজে একটি ডিজাইন করেছি। সকলের সম্মতি পেলে যেকোন সময় এ কাজ শুরু করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সার হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দুর্ভাগ্যবান যে, আমি এতবড় দায়িত্ব একা নিতে পারছি না। একটু একটু করে আগানোর চেষ্টা করছি, ছোট কাঁধে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি, ক্যান্সার হাসপাতালটি আসলে আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এসময় তিনি বলেন, আমি বলছি না ক্যান্সার হাসপাতাল আর্থিক কারণে হচ্ছে না। এটার উদ্যোগটা নিলে একটু একটু করে অর্থ সংকুলান হয়ে যাবে এটা আমি বিশ্বাস করি। উদ্যোগটা নেয়া আসলে বড় ব্যাপার, যেটা আমি একা নিতে পারছি না।

হুমায়ূন আহমেদ যে ক্যান্সার হাসপাতাল করতে চেয়েছিলেন, সে স্বপ্নটা অনেক বড়, পরিবারের সবাই এক হয়ে এটা শুরু করতে হবে। আর উদ্যোগটা নিতে হবে। আমি হুমায়ূন আহমদের পরিবারের সকলকে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি, পরিবারের সবার সম্মতির অপেক্ষা করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা সম্মতি পাব। সবার সম্মতি পাওয়া গেলে ক্যান্সার হাসপাতাল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সবার সম্মতি ছাড়া এটা বাস্তবায়ন সম্ভব না।

দূর-দুরান্ত থেকে আগত হুমায়ূন ভক্তরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন লেখকদের মধ্যে একটি নক্ষত্র। এ নক্ষত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হোক বাংলাদেশর লক্ষ কোটি মানুষ। তিনি না থেকেও আমাদের মাঝে রয়েছেন। সারা দেশেই রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত। তাদের কেউ কেউ এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, শুধু আজকের দিনে নয়, ভক্তরা হুমায়ূনকে সারাবছরই স্মরণ করে।

ভক্তরা মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টির মধ্যে, প্রকৃতি, জোছনা ও বৃষ্টির মধ্যে ছিলেন, আছেন ও বেঁচে থাকবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

এমএএস/আরকে/এমএস 


oranjee