ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০১৯

ফাইল ছবি

বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সৈয়দ আবদুল হাদী পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্রের গানেই বেশি সফলতা তার। তবে রবীন্দ্রসঙ্গীতেও রয়েছে তার অসামান্য দখল। তার কণ্ঠে রবি ঠাকুরের গানও হয়েছে শ্রোতানন্দিত।

আব্দুল হাদির শৈশব কেটেছে আগরতলা, সিলেট ও কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়। ছোট বেলায় বাবার গ্রামোফোন রেকর্ড শুনে সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। স্কুল কলেজ শেষ করে ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকেই মূলত তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

সৈয়দ আব্দুল হাদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। সর্বশেষে তিনি লন্ডনে ওয়েল্স ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরীয়ান হিসেবে কাজ করেছেন।

সঙ্গীত জীবনে সৈয়দ আবদুল হাদী দেশাত্ববোধক গানের জন্য জনপ্রিয়। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সঙ্গীত করছেন। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবন থেকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে সৈয়দ আবদুল হাদী একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় গান করেন। সিনেমার নাম ছিল ‘ডাকবাবু’। মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সঙ্গীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে সৈয়দ আবদুল হাদীর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু।

বেতারে গাওয়া তার প্রথম জনপ্রিয় গানটি ছিল ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’। সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের গানে সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন লাকী আখ্‌ন্দ। এই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘সখি চলনা, সখি চলনা জলসা ঘরে এবার যাই’- গেয়েছেন সৈয়দ আবদুল হাদী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয় সৈয়দ আবদুল হাদীর প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের একক অ্যালবাম ‘যখন ভাঙলো মিলন মেলা’। সৈয়দ আবদুল হাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে অনার্স পড়ার সময় সুবল দাস, পি.সি গোমেজ, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ প্রমুখ তাকে গান শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন।

তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- যেও না সাথী, চক্ষের নজর এমনি কইরা, একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে কাঁদিস কেন মন, জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো আর কতদিন বল সইবো, আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার, এমনওতো প্রেম হয়, সতী মায়ের সতী কন্যা, চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার, যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে, চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার।

এমএস


oranjee