ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের জন্মদিন আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৯

ফাইল ছবি

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের জন্মদিন আজ শুক্রবার। ১৯৪১ সালের এই দিনে ভারতের কুচবিহারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এই শিল্পীর বাবা প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী আব্বাস উদ্দিন, যাঁর প্রতি শ্রোতাদের মুগ্ধতা অফুরান। সেই মুগ্ধতা ফেরদৌসী রহমানের ক্ষেত্রেও।

জনপ্রিয় এই গায়িকা প্রায় ছয় দশকের গানের ক্যারিয়ারে ফোক, আধুনিক, উচ্চাঙ্গসংগীত, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, প্লেব্যাক সব ধরনের গানই গেয়েছেন। আর তার এই গানের হাতেখড়ি হয়েছে তার পিতা পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের কাছেই। বাবা ছাড়াও ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, ইউসুফ খান কোরেইশী, কাদের জামেরী, গুল মোহাম্মদ খান প্রমূখ সঙ্গীতজ্ঞের কাছে তালিম নিয়েছেন এই গায়িকা।

খুব অল্প বয়স থেকে তার মঞ্চে গাওয়া শুরু হয়। আর মাত্র ৮ বছর বয়সে রেডিওতে ‘খেলাঘর’ নামের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাছাড়া ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান করেন। আর বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এসো গান শিখি’ দিয়ে সবার কাছে ‘খালামনি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন ফেরদৌসী রহমান।

জনপ্রিয় এই সঙ্গীত তারকা তার গায়কী দিয়ে মুগ্ধ করেছেন চলচ্চিত্রেও। ১৯৬০ সালে ‘আসিয়া’ নামের চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম প্লে ব্যাক করেন। ৬০ ও ৭০-এর দশকের বহু চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্লে ব্যাক করা চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৫০-এর কাছাকাছি।

১৯৬০ সালে ফেরদৌসী রহমান ইউনেস্কো ফেলোশীপ পেয়ে লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিক থেকে ৬ মাসের সঙ্গীতের ওপর স্টাফ নোটেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। ৩টি লং প্লেসহ প্রায় ৫০০টি ডিস্ক রেকর্ড এবং দেড় ডজনের বেশি গানের ক্যাসেট বের হয়েছে তার। তার মাত্র ১টি সিডি বের হয়েছে ‘এসো আমার দরদী’। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার গানের রেকর্ড হয়েছে তার।

তাকে শুধু গায়িকা বললে ভুল হবে। তার আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সংগীত পরিচালক। গান গাওয়ার পাশাপাশি অনেক গান পরিচালনাও করেছেন তিনি।

গানের জগতে সফল এই গায়িকা ১৯৬৬ সালের ২৬শে অক্টোবর মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমানের সঙ্গে পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের রুবাইয়াত ও রাজিন নামে দুই ছেলে আছে।

ফেরদৌসী রহমান নজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। আমাদের সঙ্গীত ভুবনে অবদান রাখার জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে নানাভাবে সন্মানিত হয়েছেন। তার অর্জিত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে আছে লাহোর চলচ্চিত্র সাংবাদিক পুরস্কার (১৯৬৩ সাল), প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কার (১৯৬৫ সাল), টেলিভিশন পুরস্কার (১৯৭৫), জাতীয় পুরস্কার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (১৯৭৭), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৭৭ সাল)। এছাড়াও তিনি নাসিরউদ্দিন গোল্ড মেডেল পুরস্কার, মাহবুবুল্লাহ গোল্ড মেডেল, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পুরস্কার লাভ করেন।

এমএস


oranjee