ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

বিশ্বজয় করা একমাত্র বাংলাদেশী জাদুশিল্পীর জন্মদিন আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯

জনপ্রিয় জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের কোন এক জন্মদিনে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। ফাইল ছবি

বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী, বংশীবাদক ও চিত্রশিল্পী জুয়েল আইচের আজ বুধবার (১০ এপ্রিল) শুভ জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে গ্লোবালটিভি অনলাইন পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। তিনি ১৯৫০ সালের আজকের দিনে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমেদকাঠিতে জন্মগ্রহণ করেন। মঞ্চে প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭২ সালে। এছাড়া মিডিয়ায় প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭৯ সালে।

জাদুকে বিনোদন থেকে শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত ও সম্মানিত করেছেন জুয়েল আইচ। কেবল মাত্র জাদু শিল্পীই নন; একাধারে বাঁশিবাদক, চিত্রশিল্পী, সমাজসেবী ইত্যাদি নানা পরিচয়ে পরিচিত। এছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় রয়েছে- তিনি একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা। আর এই পরিচয়টিকেই তিনি সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেন। তিনি দেশ বিদেশের অনেক নামীদামী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জুয়েল আইচ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধের বীর যোদ্ধাও। দেশ মাতৃকার টানে তিনি প্রাণের প্রিয় জাদুর সব সরঞ্জাম ফেলে জীবন বাজি রেখে চলে যান ভারতে যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে। ট্রেনিং নিয়ে তিনি পিরোজপুরে ফিরে এসে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

জুয়েল আইচের ছেলেবেলা কেটেছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমেদকাঠির গ্রামের বাড়িতে। সেই সুবাদে সমেদকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে তিনি পিরোজপুর শহরে চলে আসেন। সেখানকার সরকারি হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি. এবং স্থানীয় কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়াও শিক্ষকতার সুবাদে তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বি.এড. কোর্স সমাপ্ত করেন।

বাবার আঁকাআঁকির কারণে জুয়েল আইচের আকর্ষণ জন্মে চিত্রশিল্পের প্রতি। আবার ছোট বেলায় গ্রামের মেলায় বাঁশি দেখে এবং বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বেদেদের বাঁশি বাজানো দেখে তাঁর আগ্রহ জন্মেছিল বাঁশি বাজনোর প্রতি। তবে জাদুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। কারো জাদু দেখে নয়, কেবল বই পড়েই জাদুর প্রতি মোহাবিষ্ট হন তিনি। ছোটবেলা থেকেই জাদুর প্রতি একটা অন্যরকম টান অনুভব করতেন। বন্দে আলী মিয়ার ‘রূপকথা’ তাঁকে টেনে নিয়ে যেত জাদুর দেশে। জাদুর পাশাপাশি আঁকাআঁকি এবং বাঁশিটাকে এখনো ধরে রেখেছেন তিনি।

শিক্ষকতা দিয়েই কর্মজীবন শুরু করেন জুয়েল আইচ। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে এসে নিজেকে জড়ালেন জাদু শিল্পে। তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে লাগল টেলিভিশনে, মঞ্চে, দেশে, বিদেশে।

এখানেই তিনি সমাপ্তি টানেননি। মৃত্যুর পরও কিভাবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা যায় সেই ভাবনায় মরণোত্তর দেহ দান করেছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন মানব কল্যাণে মরণোত্তর দেহদাতা সমিতি। তিনি এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

জুয়েল আইচের রয়েছে বিশাল সংগ্রহ ভাণ্ডার। এ সংগ্রহশালার অধিকাংশই বই। এর মধ্যে জাদুর বই তো আছেই, আরো আছে প্রবন্ধ ও কবিতার বই, দর্শন, উপন্যাস, জীবনী, আত্মজীবনী, আত্মউন্নয়ন, নৃতত্ত্ব, স্বাস্থ্য, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোলসহ বিচিত্র ধরনের হাজার হাজার বই। তাঁর সংগ্রহে এমন অনেক দুর্লভ বই রয়েছে যার প্রকাশ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে।

তাঁর সংগ্রহের আরেকটি ভিন্ন বিষয় হলো বাঁশি। তাঁর সংগ্রহশালায় কয়েকশ দেশী-বিদেশী বাঁশি রয়েছে। তিনি নিয়মিত বাঁশি বাজান। তাই সংগ্রহ করেছেন দেশ বিদেশের নানা আকারে নানা ধরনের অসংখ্য বাঁশি। নিজে আবিষ্কার করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একটি বাঁশী।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুণী শিল্পী বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন দেশসেরা জাতীয় পুরস্কার ‘একুশে পদক’। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে কাজী মাহমুদুল্লাহ স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা জাতীয় পুরস্কার বেস্ট ম্যাজিশিয়ান অব দ্য ইয়ার। সোসাইটি অব অ্যামেরিকান ম্যাজিশিয়ান ১৯৮১ সালে জুয়েল আইচকে এ পুরস্কারে ভুষিত করে। এছাড়া ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর দখলে প্রায় দেড়শ’র মতো পুরস্কার রয়েছে।

স্ত্রী বিপাশা আইচ ও একমাত্র মেয়ে খেয়া আইচকে নিয়ে সংসার জুয়েল আইচের। স্ত্রী বিপাশা একদিকে সংসার এবং অন্যদিকে তাঁর জাদুর সহযাত্রী।

এমএস


oranjee