ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

শুভ জন্মদিন জাতির পিতা

অনুরূপ আইচ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

১৭ মার্চ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। স্বাভাবিকভাবেই এ দিনটি বাংলাদেশের জন্যে একটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এদিনে পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই আজ অবধি। কিন্তু জন্মের পর থেকেই আমি আমাদের জাতির পিতার ভক্ত। তাকে নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে ছোটবেলায় অনেক মারামারি করেছি বন্ধুদের সাথে। স্কুলে পড়ার সময় আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখে পুরস্কৃত হয়েছিলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে।

স্কুলজীবন শেষ করে আমার কলেজ জীবনেও আমি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত থাকলেও আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হইনি। সে সময় রাজনৈতিক অনেক নেতার বিতর্কিত কথায় বা কাজে সমালোচনার পাত্র হলে আমিও বন্ধুদের আড্ডায় গালি দিয়েছি তাদেরকে। স্বভাবতই আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতানেত্রীও আমার এই তালিকায় ছিলেন। আমার এসব বিচ্ছিন্ন কথা শুনে অনেকে আমাকে আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে ভাবতেন। পরে আবার এরাই কনফিউশানে পরতেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার প্রগাঢ় শ্রদ্ধা দেখে। এই একটা জায়গায় আমি কাউকে ছাড় দিতাম না। শেখ মুজিবকে নিয়ে কেউ বাজে কথা বললে তার কোনো মাফ ছিল না আমার কাছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি আমার এই ভালোবাসার গোড়াপত্তন করেছেন আমার বাবা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার বাবা চট্টগ্রামের নন্দিত স্কুল শিক্ষক ছিলেন বলে তিনিও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না জীবনে। তবে আমার শৈশবে তিনি আমাকে সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি সব সময় আমাকে বলতেন, শেখ মুজিবের জন্ম না হলে এই বাংলাদেশ নামের কোনো দেশের জন্ম হতো না। হয়ত উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার মতো একই ভাবধারার দুটি দেশের মত কিছু একটা ভবিষ্যতে হলেও হতে পারতো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান আলাদা হওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে বাংলাদেশের মতো সুন্দর ও আধুনিক দেশের জন্ম হতো না কখনোই।

এ কথাগুলো আমার বাবা জীবদ্দশায় সব সময় বলতেন। বঙ্গবন্ধু কি শুধু একটি বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন! না... তিনি ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৭২ সালে একটি আধুনিক সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন। বাবা সব সময় বলতেন, শেখ মুজিবই বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা। অন্যরা যারা এ নিয়ে ক্রেডিট নেন, তারা হলেন এক জায়গার নোট দেখে অন্য খাতায় লেখা পাবলিক। কিন্তু কোন জায়গা থেকে কোন পয়েন্ট নিয়ে আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তাও বলে দেয়া ছিল শেখ মুজিবেরই।

স্বাধীনতার ঘোষণা প্রশ্নেও আমার বাবা একই কথা বলতেন, টেলিভিশনের একজন সংবাদ পাঠক তো একটা টিভির সিইও বা প্রধান সম্পাদকের মর্যাদা পাবে না কভু। প্রধান সম্পাদক বা তার অধীনে কর্মরত এক দল সাংবাদিকদের যাচাই বাছাই ছাড়া একটা কথা বলারও কি সাধ্য আছে সংবাদ পাঠকের? না... নেই। ঠিক স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়েও কোনো বিতর্কের প্রশ্নই ওঠে না।
আমার বাবা ঠিক এভাবে যুক্তি দিয়ে দিয়ে আমাকে ইতিহাস শিখিয়েছেন। শুধু তিনি মুখেই বলতেন না, ইতিহাসের অনেক বইও তিনি আমাকে পড়িয়েছেন। যে কারণে আমি আজোবধি আমার সব কাজে সততা ও নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পেরেছি।

লেখার শেষ ভাগে এসে জাতির পিতাকে জানাই শুভ জন্মদিন। তার জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনাকে, উনার পরিবারকে ও উনার প্রিয়জনদেরকে ভালো রাখেন ইহকালে ও পরকালে।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি


oranjee