ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

 
 
 
 

আল মাহমুদ সাহিত্যে স্থায়ী আসন তৈরি করেছেন: আনিসুজ্জামান

গ্লোবালটিভিবিডি ১:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০১৯

‘আল মাহমুদকে যারা হিংসা করেছে, তারাই একপর্যায়ে একঘরে হয়ে গেছে' মন্তব্য করে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, কবি আল মাহমুদের মৃত্যু নেই। তার শিল্পীসত্তা অমর। শহীদ মিনার আল মাহমুদকে না ডাকতে পারলেও তিনি তার মধ্যেই বিচরণ করবেন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদ স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ নাগরিক শোকসভার আয়োজক ছিল কবি আল মাহমুদ পরিষদ। ড. মাহমুদ শাহ কোরেশীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন এমিরিটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও কবি আল মুজাহিদী।

উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কবি আল মাহমুদ পরিষদের আহ্বায়ক কবি আসাদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন স্তরের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে অনেকেই কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, কবি আল মাহমুদ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন ঈর্ষান্বিত সাফল্য লাভ করেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন তৈরি করে গেছেন। সেই আসন থেকে কেউ তাকে সরাতে পারবে না।

মুস্তাফা জামান আব্বাসী বলেন, অসামান্য প্রতিভাবান কবি আল মাহমুদ ব্যক্তিজীবনে ছিলেন সহজ সরল। সারা দেশের মানুষ কবিকে ভালোবাসে। কিন্তু এর মধ্যে যারা তাকে ভালোবাসে না তারা ইতোমধ্যে একঘরে হয়ে গেছে। যারা নজরুলকে হিংসা করেছিল তারাও একঘরে ছিল।

ড. মঈন খান বলেন, আল মাহমুদ ছিলেন উপমহাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান কবি। তিনি ছিলেন লোক-লোকান্তরের কবি। তিনি আজ চলে গেলেও সবার অন্তরে চিরজীবী আছেন। তিনি ছিলেন প্রতিবাদী এবং বাস্তবতার নিরিখে প্রতিবাদ করেছেন।

বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, আল মাহমুদ ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে। একজন মর্দে মোমিন। তার কবিতায় তিনি আল্লাহর প্রতি প্রেম প্রকাশ করেছেন। তিনি যে সম্পদ রেখে গেছেন তার কদর হলে আমরা বুঝব তার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন হয়েছে।

কবি আল মুজাহিদী বলেন, আল মাহমুদ তার কাব্যগ্রন্থে মানুষকে মনুষ্যত্বময় করতে চেয়েছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা অনন্তকালের সন্তান। তিনি বলেন, শহীদ মিনার আল মাহমুদকে না ডাকতে পারলেও তিনি তার মধ্যেই বিচরণ করবেন।

অনুষ্ঠানে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মীর মনির মাহমুদ। কুরআন তেলাওয়াত করেন কবি আল মাহমুদের পারিবারিক বন্ধু কবি আবিদ আজম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আল মাহমুদ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক জাকির আবু জাফর ও শায়লা আহমেদ।

এএইচ/এমএস


oranjee

আরও খবর :