ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বিষয় :

ঢাকা

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ২:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

ফাইল ছবি

সব্যসাচী লেখক, কথাশিল্পী, কবি সৈয়দ শামসুল হকের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর)। সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সৈয়দ শামসুল হকের সাবলীল পদচারণা ছিল কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সব শাখায়। পঞ্চাশের দশক থেকেই তিনি বিচিত্র রচনায় সমৃদ্ধ করে গেছেন বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।

সৈয়দ হক কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ১৯৫২ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে মানবিক শাখায় এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময় স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। সেই থেকে লেখালেখিকে তিনি একমাত্র ব্রত করে নিয়েছিলেন।

ছাত্রাবস্থায়ই সৈয়দ হকের প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৫৪ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘তাস’ প্রকাশের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যাঙ্গনে তিনি স্থায়ী আসন তৈরি করে নেন। এরপর একে একে প্রকাশিত হয়- ‘শীত বিকেল’, ‘রক্তগোলাপ’, ‘আনন্দের মৃত্যু’, ‘প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান’, ‘জলেশ্বরীর গল্পগুলো’সহ বিচিত্র বিষয়ের গভীর জীবনঘনিষ্ঠ রচনা। তার গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘এক মহিলার ছবি’, ‘নীল দংশন’, ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’, ‘তুমি সেই তরবারি’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ইত্যাদি। ছোটদের জন্য লেখা ‘সীমান্তের সিংহাসন’, ‘আবু বড় হয়’ ও ‘হাডসনের বন্ধু’ বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার অতুলনীয় কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নূরল দীনের সারাজীবন’ বাংলা সাহিত্যে নক্ষত্রের মতো জ্বল জ্বল করছে।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। তার ভাষা আর আঙ্গিকের উজ্জ্বল নিরীক্ষার পরিচয় উৎকীর্ণ হয়ে আছে ‘বিরতিহীন উৎসব’, ‘অপর পুরুষ’, ‘বৈশাখে রচিত পঙ্্ক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’সহ বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থে। ম্যাকবেথ, টেম্পেস্ট, শ্রাবণ রাজাসহ বিশ্বসাহিত্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন।

তার ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু তৈরি করেছেন চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। লেখালেখি ছাড়াও সৈয়দ হক বিবিসিতে সাংবাদিকতাসহ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চলচ্চিত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে সাহিত্যচর্চাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন।

সাহিত্যে অবদানের জন্য স্বাধীনতা-পূর্বকালেই তিনি আদমজী পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে তিনি ভূষিত হয়েছেন।

সৈয়দ হকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার গুলশান-১’এর বাসভবন ‘মঞ্জুবাড়ি’তে বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আনন্দ-উৎসবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে সৈয়দ শামসুল হকের তিনটি নতুন বই। তার অনূদিত ইবসেন-নাটক পীরচানের পালা (চারুলিপি প্রকাশন), নির্বাচিত গল্পের সংকলন গল্পগাথা (চিত্রা প্রকাশনী) এবং সাহিত্য-কলামের সংকলন জলেশ্বরীর দিনপত্রী (অরিত্র প্রকাশনী)। এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ হকের সর্বাধিক নাটকের নির্দেশক মঞ্চসারথি আতাউর রহমান।

এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সন্ধ্যা সাতটায় সৈয়দ শামসুল হক স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে এবং পরে সৈয়দ শামসুল হক রচিত নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মঞ্চস্থ করবে। ২৯ ডিসেম্বর একাডেমির উদ্যোগে মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘হেমলেট’।

এমএস


oranjee