ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

 
 
 
 

দাবানলে ভিলেন বনে গেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট!

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

ফাইল ছবি

এতদিন ২০০০টি জায়গা আগুনের উৎস ছিল। এবার সেই সংখ্যাটা বেড়ে ৩৮৫৯। অর্থাৎ আগুন নেভার বদলে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১২ লক্ষ হেক্টর জমি।

এই সময়টা ব্রাজিলে শুকনো মৌসুম। যা আগুন নেভানোর পক্ষে প্রতিকূল। তবে এবছর ব্রাজিলে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও একটা বিষয়ে পরিবেশবিজ্ঞানীরা একমত। এই অগ্নিকাণ্ড প্রাকৃতিক নয় একেবারেই। ব্রাজিল সরকারের মদতে নির্বিচার জঙ্গল সাফ করাই এর প্রধান কারণ।

তারা একেবারে হিসেব নিকেশ দিয়ে জানাচ্ছেন, সাধারণত আমাজন অঞ্চলের ১২ একর জমি চাষের জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত। কিন্তু এই জমির গণ্ডি পেরিয়ে কৃষকরা জঙ্গলের আরও ভিতরের দিকে চাষযোগ্য জমি তৈরি করেছেন। ফলে এখন পৃথিবীর বৃহত্তম চিরসবুজ অরণ্যে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ একর, যা প্রায়শয়ই আগুন জ্বলে ওঠার অন্যতম কারণ। আর ব্রাজিলের এই অবৈধ কাজের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশের একাধিক দেশ। বলিভিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গুয়েনা – বিভিন্ন দেশের বনাঞ্চলের অবস্থাও একই।

সম্প্রতি জাতিসংঘের পরিবেশ সংক্রান্ত বিভাগের প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, অরণ্য ধ্বংস করতে এই শুষ্ক মৌসুমে বনাঞ্চলের ঘাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তা দাবানলের আকার নিয়ে অনেকটা অংশ সাফ করে দেয়। কলম্বিয়াতে আবার অন্য ব্যাপার। সেখানে বরাবরই বেআইনিভাবে কোকো চাষের রমরমা। এছাড়া মাদক উৎপাদন এবং পাচারে কলম্বিয়ার কুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। এবার এই সমস্ত বিষয়টিও জুড়ে যাচ্ছে আমাজন অরণ্যের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে।

আমাজনের অগ্নিকাণ্ডের জন্য বিশ্বের কাছে রীতিমতো ভিলেন বনে গেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। খামখেয়ালিপনার জন্য তাকে ঠাট্টা করে নিরক্ষীয় অঞ্চলের ‘ট্রাম্প’ বলছেন সকলে। তার সাফাই, এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। কৃষকদেরও তো জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তাই তাদের জন্য চাষের জমি তৈরি করে দেওয়া সরকারের কর্তব্য। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এএইচ/এমএস 


oranjee