ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

সংসদে আমার এলাকার মানুষের দু:খ কষ্টের কথা বলবো: ফারুক

সৈয়দ নূর-ই-আলম ৪:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

চিত্রনায়ক ফারুক

মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান যিনি ফারুক নামে অধিক পরিচিত। একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জল ছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। তিনি লাঠিয়াল, সুজন সখী, নয়নমনি, সারেং বৌ, গোলাপী এখন ট্রেনে, সাহেব, আলোর মিছিল, দিন যায় কথা থাকে, মিয়া ভাই-সহ  শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০৮ সালে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ নামে আজাদী হাসানাত ফিরোজ পরিচালিত সিনেমাটি ছিল তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র। ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১৮ সালে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন।

চিত্রনায়ক ফারুক অভিনীত প্রথম ছবি ‘জল ছবি’র পোস্টার

তরুণ বয়স থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে জয় ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্লোবাল টিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাংসদ ফারুক।  আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

নায়ক থেকে জনপ্রতিনিধি- ভাবতে কেমন লাগছে?

ফারুক: ভাবতে তো ভালোই লাগছে। ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম।  তবে এখনকার বিষয়টা একটু ডিফারেন্ট। বহুদিন অভিনয়ের পর- এই যে নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসেছি। যদিও স্ক্রিনে আমি দেশের কথা বলেছি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে বিচারের দাবিতে আমরাই রাজপথে দাঁড়িয়েছিলাম। অন্যরা তো সাহসও পাননি কথা বলার। কিন্তু একদম জনগনের সাথে সরাসরি কাজ করা সেটা হয়নি। জনগন আমাকে কি ভালোবাসেন, এটা টের পেয়েছি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে। একজন রিকসাওয়ালা আমাকে ৩০০ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, এটা নেন, ছোট মনে করবেন না। এটা নির্বাচনে কাজে লাগবে। অনেকে ১৫শ টাকা, ৫ হাজার টাকা দিয়েছে। নায়ক থেকে নির্বাচনে এসে আমার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা টের পেয়েছি।

নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে কোনটা বেশি কাজ করেছে- নায়ক পরিচিতি নাকি দলীয় প্রতীক?

ফারুক: আমি তো প্রতীক নিয়ে এসেছি। তাছাড়া আমি ৯ বছর বয়স থেকে দলের সাথে আছি। আমি তো ধরবো দলের পক্ষ থেকে যে এসেছি এই জায়গাটা প্রাধান্য দিতে হবে। তবে নায়ক হিসেবে যে পরিচিতি সেটা আমাকে এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি দলের প্রতীককে বেশি প্রাধান্য দেবো। যদি দল আমাকে প্রার্থী না করতো তবে আমি তো জনপ্রতিনিধি হতে পারতাম না, তাই না?

নির্বাচনে জেতার পর প্রথমদিনের অনুভূতি বলুন।

ফারুক: আনন্দের কথা কি বলবো। এতো ভালো লেগেছে যে, কল্পনা করার মতো নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানে জনগনের কথা বলা। আমার ভেতর একটা কিউরিসিটি ছিল নির্বাচনে জিততে পারবো কিনা। তবে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। আমি অনেক হেটেছি নির্বাচনী এলাকায়, অনেক কাজ করেছি। এখানকার জনগন আমার এ পরিশ্রমের মূল্য দিয়েছে। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের ব্যাপার।

এলাকার অভিভাবক হিসেবে প্রথম কোন কাজটা করবেন বলে ঠিক করেছেন?

ফারুক: আমি তো এখনও সংসদে যাইনি। সংসদ বিষয়টা একদমই ভিন্ন ব্যাপার। শতভাগ আইনের ব্যাপার। এখান থেকে কথা বলার অনেক কিছু আছে। সেটা এই মুহুর্তে বলতে পারবো না। তবে যেটাই বলবো মানুষের কথা বলবো। উন্নয়নের কথা বলবো। মানুষের দু:খ-কষ্টের কথা বলবো। পাঁচ বছর হাতে আছে। প্রথমে আমাকেই জানতে হবে কোন দিকটায় আমি যাবো। তা ঠিক করে আগাবো।

আপনি তো নির্বাচনী এলাকা ঘুরেছেন, আগামী পাঁচ বছরে কি কি সমস্যা সমাধান করবেন বলে ঠিক করেছেন?

ফারুক: নির্বাচনের আগে ১৭ থেকে ১৮ দিন ঘুরেছি  এলাকায়।  ১৮ দিনে ৪টা থানা পুরোপুরি দেখা সম্ভব হয়নি। দেখতে হবে কোথায় কি আছে। তবে কড়াইল বস্তিতে গিয়ে সেখানকার মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা তাদের দু:খ-কষ্টের কথা বলেছে। তার মধ্যে পুনর্বাসনের বিষয়টা বেশি করে বলেছে তারা।  এগুলো তো এই মুহুর্তে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। আমার সরকার আছে, প্রধানমন্ত্রী আছেন তারা দেখবেন বিষয়গুলো। আমি  প্রধানমন্ত্রীকে এলাকার সমস্যাগুলোর কথা বলবো। উনি তো কাজ করতে পছন্দ করেন। যে কাজগুলো করতে পছন্দ করেন সে বিষয়গুলোই তার কাছে উপস্থাপন করবো।

চিত্রনায়ক ফারুক

চলচ্চিত্রের অনেক সমস্যা, একজন চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবে কিভাবে এসব সমস্যা সমাধানে কিভাব অংশগ্রহণ করতে পারবেন?

ফারুক: আমাকে যখন আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তখন তার মুখে শুনেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন চলচ্চিত্রের জন্য তিনি কাজ করতে চান। চলচ্চিত্রের যেকোনো লোক তার কাছে গিয়েছেন তিনি উদার হস্তে সাহায্য করেছেন। আমাদের এফডিসিতে অনেক উন্নতমানের যন্ত্রপাতি আছে যেগুলো মুম্বাইতেও নেই। সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। তবে বিএনপির সময়ে চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করে গেছে। যাই হোক সেটা বলে শেষ করা যাবে না। এফডিসিতে সরকার খালি ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ভর্তুকি বন্ধ করে এফডিসির নিজস্ব আয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দিতে হবে। ক্যামেরা ও ল্যান্স ও এডিটিং মেশিন দিয়ে এফডিসির পুরোপুরি আয় করা সম্ভব নয়।  এফডিসির নিজস্ব আয়ে চলতে হলে তাদের ভাবতে হবে কিভাবে আয় বাড়াতে হবে। যেমন- এফডিসিতে যেসব যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো ভাড়া বাজার দর  থেকে কম রেটে দিতে হবে যাতে সবাই এগুলো নেয়। এতে কিছু থোক বরাদ্ধও লাগবে সরকার থেকে। সেটা আমি আগেই বলেছি। এই অর্থ দিয়ে ১২শ’ সিটের সিনেপ্লেক্স করতে হবে। সিলভার কালার স্ক্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ফারুক অভিনীত ‘সুজন সখী’র পোস্টার

কেন্দ্রীয়ভাবে ছবি প্রদর্শনের জন্য সেন্ট্রাল সার্ভারের ব্যবস্থার দাবি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে চলচ্চিত্র কর্মীরা, সরকারের একটা উদ্যোগ ছিল এ ব্যাপারে, বিষয়টি নিয়ে বলেন।

ফারুক: সেন্ট্রাল সার্ভারের কথা যদি আসে তবে হল ও প্রজেক্টরের কথা আসবে। সার্ভার একটা থাকে, যেটা থেকে ভাইরাল হয় না। সেন্ট্রাল সার্ভার হলেই যে নকল হবে না সেটা ভুল ধারণা। তবে এফডিসির যদি সেন্ট্রাল সার্ভার থাকে তবে তো কথাই নেই। এর সঙ্গে ই-টিকেটিং করতে হবে। অনেক হলের মালিক এই ব্যবস্থা পছন্দ করেন না। কেন? এখানে সবার পাওনা যার যার অ্যাকাউন্টে চলে আসে। এক্ষেত্রে ১০০ মেশিন নূন্যতম লাগে। আমি বিশ্বাস করি সরকার এটা করবে। আমি এর পক্ষে কথা বলবো। তথ্য মন্ত্রণালয়ে এটা এখন আটকে আছে। এখন যে তথ্যমন্ত্রী আছেন তিনি চলচ্চিত্র বিষয়ে খুব জানেন। আশা করি, তিনি চলচ্চিত্রের এই সমস্যা সমাধান করবেন।

চিত্রনায়ক ফারুক

এফডিসিতে শিল্পীদের মধ্যে দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের অবস্থান খুব স্পষ্ট,  কিভাবে এর সমাধান করা যায়?

ফারুক: দেখেন দ্বন্দ্ব’র বিষয়টা সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্র ইন্ডাষ্ট্রিতে আছে। তবে তার প্রকাশ হওয়া উচিৎ নয়। আমাদের  এখানে কেমন যেন প্রকাশ পায়। রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার কি প্রতিদ্বন্দ্বীতা ছিল না? ছিল, তবে সেটা সৌহার্দতার মধ্যেই এগিয়েছে।  আমি সবাইকে বলবো এক হয়ে কাজ করতে। সবাই একজোট হয়ে কাজ না করলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 

;

 

ছবি: জাকির হোসেন

এসএনএ

 

 

 

 

 


oranjee