ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দলের চেয়ে মানবতা বড়

সৈয়দ নূর-ই-আলম ২:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের চেয়ে মানবতাকেই বড় হিসেবে দেখেছেন সব সময়ে। তিনি সবাইকে দেখেছেন সমান চোখে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের তিনি পছন্দ করেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি কখনো দলীয় বিবেচনা মাথায় রাখেননি। সাংগঠনিক কাজে আওয়ামী সমর্থিত সাংস্কৃতিক কর্মীদের তিনি নানাভাবে খোঁজ রাখলেও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি সমর্থিত শিল্পীদের আলাদা করেননি। বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। এমনকি যারা দল নিরপেক্ষ শিল্পী তাদের পাশেও থেকেছেন নানা সময়ে। শুধু তাই নয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিএনপি সমর্থিত ও দল নিরপেক্ষ শিল্পীরাও বাদ যায়নি। যার সর্বশেষ নিদর্শন বরেণ্য নির্মাতা সদ্যপ্রয়াত আমজাদ হোসেন। তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও তার অসুস্থাবস্থায় এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফাইল ছবি

আমজাদ হোসেন মারা যাওয়ার আগে যখন তিনি চরম অসুস্থ তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নত চিকিৎসার্থে ৪২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যা কিনা একজন শিল্পীকে অনুদানের অঙ্ক হিসেবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি।  গণভবনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া হিসেবে ২২ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং চিকিৎসার ব্যয় হিসাবে ২০ লাখ টাকা একুশে পদকজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের পরিবারের হাতে তুলে দেন।

ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা প্রবীর মিত্রকে পঁচিশ লক্ষ টাকা, কানিজ ফাতেমা জলিকে পঁচিশ লক্ষ টাকা, অভিনেত্রী নুতনকে বিশ লাখ টাকা এবং লোক সঙ্গীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতীকে বিশ লক্ষ টাকার অনুদান দিয়েছেন তিনি। ড্যানি রাজকেও আর্থিকভাবে সহায়তায় অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া এসময় আরও তিন শিল্পীকে চিকিৎিসার্থে  অনুদান দেন। এই তিন শিল্পীর মধ্যে মিনু মমতাজ কিডনী এবং চোখের সমস্যায় ভুগছেন। আইরিন অধিকারী মেরুদণ্ডের হাড় ও পেটে টিউমার রোগে ভুগছেন এবং খেয়া ইসলাম ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত।  এদের মধ্যে বেশিরভাগই দল নিরপেক্ষ। তবুও প্রধানমন্ত্রী তাদের অনুদান দেন।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় ঢাকার সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অর্থসঙ্কটে থাকা লোকসংগীত শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসা চলছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতাল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফাইল ছবি

চলতি বছরের প্রথম দিকে খালেদা আক্তার কল্পনাকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা কাজী হায়াৎকেও ১০ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের অসুস্থতার খবর পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি জাতীয় পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অসুস্থ বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক ও আলোকচিত্র সাংবাদিক জালাল উদ্দিন হায়দারের চিকিৎসার জন্য অনুদান হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিতা হক ও জালাল উদ্দিন হায়দারের কাছে যথাক্রমকে ৩০ ও ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় শেখ হাসিনা আরও ছয়জনকে তাদের ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসার জন্য মোট ৮৫ লাখ টাকা এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন।

গতবছর চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের চিকিৎসায় ব্যয় করার জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সব চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী। একই বছর  চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অসুস্থ আনোয়ারা বেগমের চিকিৎসায় ৩০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত কবি ও ছড়াকার আখতার হুসেন-এর চিকিৎসার জন্য ৩২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৬ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়িকা পারভিন সুলতানা দিতির চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফাইল ছবি

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের চারজন শিল্পীকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। এই চার শিল্পী হলেন নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন, অভিনেতা টেলি সামাদ, আব্দুস সাত্তার ও বংশীবাদক বাসুদেব দাস। এদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম খোকন বিকল্পধারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

একই বছর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর দু’জন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকের পরিবারের কাছে পাঁচলক্ষ টাকার দু’টি আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। অকাল প্রয়াত শিল্পী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক কিশোর কুমারের পরিবারের জন্য এবং কন্ঠশিল্পী ও সংগীত প্রশিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য চেক দু’টি প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে প্রাপ্ত অনুদান থেকে এ অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে। কিশোর কুমারের পরিবারের পক্ষে তার স্ত্রী অঞ্জনা রাণী ঘোষ ও মোঃ আমিরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষে তার কন্যা ফারজানা ববি চেক গ্রহণ করেন।

ফাইল ছবি

এদিকে, বিভিন্ন বছরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আয়োজনে বিএনপি সমর্থিত শিল্পীদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এই তালিকায় দল নিরপেক্ষতাও লক্ষণীয়। বিশেষ করে গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও চাষী নজরুল ইসলামের মতো বহুল পরিচিতি বিএনপি সমর্থিত শিল্পীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে তিনি রীতিমতো নজির সৃষ্টি করেছেন।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল টিভি

এসএনএ

 

 


oranjee