ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

খ্যাতিমান সঙ্গীতজ্ঞ আলম খানের আজ জন্মদিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

আতিক হেলাল : পুরো নাম খুরশিদ আলম খান। আলম খান নামেই খ্যাতিমান। বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার বিভাগে সাত বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

আজ এই গুণী সঙ্গীতজ্ঞের জন্মদিন। গ্লোবাল টিভির পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ জন্মদিন।

আলম খান ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২২ অক্টোবর, ১৯৪৪ সালে। তার বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্ট এর এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ও মা জোবেদা খানম ছিলেন গৃহিণী। তার মা জোবেদা খানম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের এক শিল্পীর বংশধর। সিরাজগঞ্জে কয়েক বছর থাকার পর বাবার চাকরি সুবাদে কলকাতায় চলে যান। ১৯৪৭ সালে বাবার সাথে ফিরে আসেন ঢাকায়। তারপর ঢাকাতেই স্থায়ী হন এবং সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করেন। স্কুলে থাকাকালীন তার গানের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়। বাবা আফতাব উদ্দিন প্রথমে অনাগ্রহ দেখালেও মায়ের উৎসাহে গানের চর্চা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার বাবাই তাকে ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জীর কাছে গানের তালিমের জন্য নিয়ে যান। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে আলম খান মেজো। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পপ সঙ্গীত শিল্পী আজম খান ছিলেন তার ছোট ভাই।

সঙ্গীত জীবন : আলম খান ১৯৬৩ সালে রবিন ঘোষের সহকারী হিসেবে ‘তালাশ’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খান পরিচালিত ‘কাচ কাটা হীরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন। তার সুর করা প্রথম জনপ্রিয় গান স্লোগান ছায়াছবির "তবলার তেড়ে কেটে তাক"।

এরপর ১৯৭৭ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন তার পরিচালিত ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রের গান নিয়ে কথা বলার সময় তার ১৯৬৯ সালের সুর করা একটি মুখরা শুনালে ছবির পরিচালক তা নিতে আগ্রহী হন। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবির আবদুল জব্বারের কণ্ঠে "ওরে নীল দরিয়া" গানটি তার এক অনন্য সৃষ্টি।

১৯৮২ সালে ‘রজনীগন্ধা’ চলচ্চিত্রে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া "আমি রজনীগন্ধা ফুলের মত" ও ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের সৈয়দ শামসুল হকের লেখা এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে "হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস" দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

১৯৮৫ সালে তার সুর করা তিন কন্যা চলচ্চিত্রের "তিন কন্যা এক ছবি" গান দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেন কলকাতার নামকরা সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানু। ‘নাগ পূর্ণিমা’ চলচ্চিত্রের এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া রক ধাঁচের "তুমি যেখানে আমি সেখানে", ‘ভেজা চোখ’ চলচ্চিত্রের এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে "জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প" গানগুলো ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করে।

পারিবারিক জীবন : আলম খান ১৯৭৬ সালে হাবিবুননেসা গুলবানুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গুলবানু একজন গীতিকার। আলম খানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া এক সময়ের জনপ্রিয় "তুমি তো এখন আমারই কথা ভাবছো" গানটির গীতিকার গুলবানু। তাদের দুই ছেলে আরমান খান ও আদনান খানও সঙ্গীত পরিচালক। অলম খানের একমাত্র মেয়ে আনিকা খান। আলম খানের ছোটভাই মরহুম আজম খানও দেশের একজন স্বনামখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, যিনি ‘গুরু আজম’ বলে খ্যাত।

চলচ্চিত্রে আলম খানের সঙ্গীত পরিচালনা-

কাচ কাটা হীরে (১৯৭২)
সুপ্রভাত (১৯৭৬)
কি যে করি (১৯৭৬)
গুন্ডা (১৯৭৬)
দুস্ত দুশমন (১৯৭৭)
সারেং বৌ (চলচ্চিত্র) (১৯৭৮)
আসামী হাজির (১৯৭৮)
আরাধনা (১৯৭৯)
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০)
বাঁধনহারা (১৯৮১)
রজনীগন্ধা (১৯৮২)
বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২)
তিন কন্যা (১৯৮৫)
নাগ পূর্ণিমা
সারেন্ডার (১৯৮৭)
লালু মাস্তান (১৯৮৭)
দুই জীবন (১৯৮৮)
বীর পুরুষ (১৯৮৮)
ভেজা চোখ (১৯৮৮)
বোনের মত বোন (১৯৮৯)
ভাইজান (১৯৮৯)
বজ্রমুষ্টি (১৯৮৯)
ভাই ভাই (১৯৯০)
অচেনা (১৯৯১)
সান্ত্বনা (১৯৯১)
ত্যাগ (১৯৯২)
বেপরোয়া (১৯৯২)
সত্য মিথ্যা (১৯৯২)
কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩)
ঘৃণা (১৯৯৪)
কমান্ডার (১৯৯৪)
অন্তরে অন্তরে (১৯৯৪)
স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫)
বিশ্বপ্রেমিক (১৯৯৫)
সন্ত্রাস (১৯৯৫)
এই ঘর এই সংসার (১৯৯৬)
প্রিয়জন (১৯৯৬)
বিচার হবে (১৯৯৬)
কুলি (১৯৯৭)
ভন্ড (১৯৯৮)
অনন্ত ভালবাসা (১৯৯৯)
ম্যাডাম ফুলি (১৯৯৯)
মেজর সাহেব (২০০২)
মাস্তানের উপর মাস্তান (২০০২)
টপ সম্রাট (২০০৩)
চাচ্চু (২০০৬)
কি যাদু করিলা (২০০৮)
এবাদত (২০০৯)
কাজের মানুষ (২০০৯)
হায় প্রেম হায় ভালোবাসা (২০১০)
মায়ের চোখ (২০১০)
আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০)
কে আপন কে পর (২০১১)
শবনম (২০১৪)।

পুরস্কার ও সম্মাননা-

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার:
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২)
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - তিন কন্যা (১৯৮৫)
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - সারেন্ডার (১৯৮৭)
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - দিনকাল (১৯৯২)
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - এবাদত (২০০৯)
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ সুরকার - কি জাদু করিলা (২০১০)।

এছাড়াও, বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ আরও অনেক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন গুণী এই সঙ্গীত পরিচালক।

এএইচ