ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

চলচ্চিত্র উৎসব: পদ হারালেন প্রসেনজিৎ, চেয়ারম্যান রাজ চক্রবর্তী

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

২০১৯-এ ২৫ বছরে পদার্পণ করবে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সে তোড়জোড় শুরু হয়েছিল গেল বছর থেকেই। তার আগে এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আর উৎসব উদযাপন কমিটির নতুন চেয়ারম্যান থাকছেন না, নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।

জানা গেছে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তার নিজস্ব ব্যস্ততার কারণে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের বিভিন্ন বৈঠকে হাজির থাকতে পারেননি। আর সে জন্যই একটা সম্ভাবনা উঠে আসছিল যে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান পদ থেকে সম্ভবত এবার সরে যেতে চলেছেন প্রসেনজিৎ। টালিপাড়ায় এত দিন যা কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল, সেই জল্পনাকে সত্যি করেই এই পদে এবার আসতে চলেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।

জানা গেছে, শুক্রবার রাজ্যের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ বছরের অ্যাপেক্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও অ্যাক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই চোখে পড়ে এই বিরাট চমক। উৎসবের জেনারেল বডি ও অ্যাক্সিকিউটিভ কাউন্সিলও নতুন করে গঠিত হয়েছে। এই বছর উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানের পদে থাকবেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ও সহচেয়ারম্যানের পদে ইন্দ্রনীল সেন।

হঠাৎ কেন চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? বর্তমানে এই প্রশ্নেই সরগরম গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এ প্রসঙ্গে অভিনেতার বক্তব্য, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য কমিটির দায়িত্বভার সামলাতে তার অসুবিধে হচ্ছিল। আর সেই জন্যই এর আগে কমিটির বেশ কিছু মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। সময়ের অভাবই তার এই সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ।

কিন্তু উপদেষ্টা কমিটিতে থাকার প্রস্তাবও কেন ফেরালেন প্রসেনজিৎ? তার পরিবর্তে রাজ চক্রবর্তীকে নির্বাচনের জন্যই কি প্রসেনজিতের এই অভিমান? প্রসেনজিতের বলেন, ‘রাজ আমার ছোট ভাইয়ের মতো। গতকালই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর ও আমাকে ফোন করেছিল। যখনই চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ওর কোনও অসুবিধে হবে, কিংবা আমাকে প্রয়োজন হবে, আমি সবসময়েই রাজের পাশে রয়েছি। থাকবও। আমি ওকে বলেও দিয়েছি যে এবছর কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (কেআইআইএফ)-এর কমিটির কোনও কাজে অফিশিয়ালি আমি যুক্ত থাকতে পারব না।’

দিন কয়েক আগেই ইডির তরফ থেকে অভিনেতাকে সারদা মামলায় তলব করা হয়েছিল। তখনই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ভাল নেই। উপরন্তু দিল্লি যাওয়ার পথে মুকুল রায়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়া নিয়ে বেশ জল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বোধহয় এবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন এমনটাই গুঞ্জন উঠেছিল। কেননা সম্প্রতি তার বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও গেরুয়া শিবিরের সদস্যপদে নাম লিখিয়েছেন। তবে এসমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, ‘দু’জনেই বিজনেস ক্লাসে যাচ্ছিলেন। আর তাছাড়া সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেই সদ্ভাব বজায় রেখে চলেন তিনি। বিমানে সফরসঙ্গী হিসেবে কেউ থাকলে, তার সঙ্গে কথা বলা মানেই যে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে নাম লেখাচ্ছেন এমনটা নয়!’ তবে হঠাৎ কেন চলচ্চিত্র উৎসবের যাবতীয় কমিটি থেকে সরে গেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, এর নেপথ্যে কি শুধুই তার সময়ের অভাব নাকি রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে? এই প্রশ্ন কিন্তু অনেকেই তুলেছেন।

এমএস


oranjee