ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

 
 
 
 

দর্শকনন্দিত একজন শক্তিমান অভিনেতা ওয়ালিউল হক রুমি

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

ফাইল ছবি

ওয়ালিউল হক রুমি একজন দর্শকনন্দিত ও শক্তিমান অভিনেতা। অভিনয় ভূবনে তার পথচলা প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি। দীর্ঘ এ পথচলায় অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে। নিজেকে পরিচিত করেছেন দর্শকদের কাছে। নাটকে তার উপস্থিতিই যেনো বাড়তি আনন্দ দেয়। তিনি মূলত হাস্যরসাত্মক অভিনয়ই বেশি করেন।

যারা বাংলা নাটক দেখেন তাদের কাছে ওয়ালিউল হক রুমি একটি পরিচিত মুখ। নাটকে তার চরিত্রগুলো বাড়তি বিনোদন দেয়। অত্যন্ত মজার এ মানুষটি বরিশালের আঞ্চলিক ভাষাতেই বেশি অভিনয় করে থাকেন এবং বরিশালের ভাষায় তিনি বেশ পারদর্শীও।

ওয়ালিউল হক রুমী ২৪ অক্টোবর বরগুনায় জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক ও মা হামিদা হক। পরিবারে তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট রুমি। তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে থিয়েটার বেইলী রোডে ‘এখন কৃতদাস’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। একই বছর ‘কোন কাননের ফুল’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক হয় তার। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনয় করেছেন অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটকে।

রুমি টেলিভিশনের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও অভিনয় করেছেন। তার বড় পর্দায় অভিষেক হয় ২০০৯ সালে ‘দড়িয়াপাড়ের দৌলতি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে।

ব্যক্তিগত জীবনে তার সহধর্মিনী ফজিয়া মান্নান, পুত্র প্রিতম ও কন্যা রোজবাকে নিয়ে তার পরিবার।

ওয়ালিউর হক রুমি অভিনীত উল্লেখযোগ্য একক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- বোকাসোকা তিনজন, ঢাকা টু বরিশাল, বাকির নাম ফাঁকি, ঢাকা মেট্রো লাভ, বাপ বেটা দৌড়ের উপর, বাপ বেটার কাপল টিকিট, বাপ বেটা মডার্ন, চিকুনগুনিয়া, জীবনের গল্প, একটুকু ছোঁয়া লাগে, মেকাপ ম্যান, কেমন আছো, দূরত্ব, থাপ্পর থেরাপী, সাজেশন সেলিম, জার্নি বাই বাস, আমেরিকান সাহেব, রতনে রতন চিনে, ভূত কাহিনী, সব পাখি ঘরে ফিরে, মি: সাম, জমজ-৫, জমজ-৬, জমজ-৭, জমজ-৮, জমজ-৯, জমজ-১০, পিয়ারী, ইস্টার মফিজ, সোনার শিকল, কঠিন প্রেম, শনি থেকে বৃহস্পতি, পিতলা পিরিত, কাজল রেখার কোরবানী, যেই লাউ সেই কদু-২, বোম্বাই দুলাল, অতি কথা, ২০০ কদবেলী ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছে, নোয়াশাল, ডি-২০, সোনার খাঁচা, রসের হাড়ি, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, বিদেশীপাড়া, ছায়াবিবি, লড়াই, মুশকিল আসান প্রা: লি:, চৈতা পাগল, তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা, মি.টেনশন, চিটিং মাষ্টার, বাচাল, খানদানী পরিবার, গায়ে মানে না আপনি মোড়ল, জলি বিউটিফুল, উল্টো পথে উল্টো রথে, নয় ছয় আনলিমিটেড, মেঘে ঢাকা শহর, আউট অব কন্ট্রোল, কমেডি ৪২০, প্রেসিডেন্ট সিরাজউদ্দৌলা, আকাশ চুরি, মন পুতুলের বায়োস্কোপ, সম্রাট, ভদ্রপাড়া, বাবুই পাখির বাসা, জীবনের অলিগলি, পাল্টা হাওয়া, ভালোবাসা কারে কয়, জামাই বাজার(৭ পর্ব) ইত্যাদি।

ওয়ালিউল হক রুমী বলেন, আমি থিয়েটার করে অভিনয়ে এসেছি। একজন থিয়েটারকর্মী বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এখনকার পরিচালক তাদের ব্যবহারে ব্যর্থ হচ্ছে। যেমন আমি এখন শুধু এক ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করে যাচ্ছি। বিশেষ করে হাসির এবং বরিশালের ভাষায়। পরিচালকরা এ ধরনের চরিত্রের জন্যই আমাকে নেয়। এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছি। কোন অভিনেতা একটি বিশেষ চরিত্রে ভালো অভিনয় করলে এবং আলোচিত হলে পরবর্তীতে পরিচালকরা সেই অভিনেতাকে শুধু একই চরিত্রেই নির্ধারিত করে ফেলেন। ফলে দেখা যায় ওই অভিনেতা টানা একই চরিত্রই করে যাচ্ছেন। অথচ পরিচালকদের উচিং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়া।

এমএস

 


oranjee