ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

 
 
 
 

অভিনেত্রী-মডেলদের আইডি হ্যাক করা সেই সামির গ্রেফতার

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:০৪ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

উচ্চ মাধ্যমিকের পরে আর পড়াশোনা করা হয়নি সামির আল মাসুদের। তবে ফেসবুক আসক্তি থেকে একসময় জড়িয়ে পড়েন হ্যাকিং গ্রুপে। কাজ করতেন অ্যানোনিমাস হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য হয়ে। হ্যাকিং করা শুরু করেন জনপ্রিয় তরুণ মডেল-অভিনেত্রী ও উঠতি তারকাদের ফেসবুক আইডি। এরপর তারকাদের ফেসবুক ইনবক্সে, হুমকি দিতেন স্পর্শকাতর ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার। আইডি ফিরিয়ে দিতে দাবি করতেন মোটা অঙ্কের টাকা। বুধবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আলোচিত এই হ্যাকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত এক বছরে সে অন্তত ৩০ জন মডেল-অভিনেত্রীর ফেসবুক আইডি হ্যাকড করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে সামির। এর মধ্যে মাহিয়া মাহি থেকে শার্লিনা হোসেনসহ একাধিক নায়িকা ও মডেল রয়েছেন। সর্বশেষ মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮-এর প্রথম রানার্সআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়ার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। দশ হাজার টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দিয়ে শুরু করে টালবাহানা। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের শরণাপন্ন হন তিনি। এদিকে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় বুধবার ঢাকার খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে সামির আল মাসুদকে গ্রেফতার করে সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যে পরিচয় দিয়ে মডেল ও অভিনেত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে মাঝে মধ্যেই চ্যাট করতেন সামির। এক পর্যায়ে কৌশলে তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নিতেন নিজের দখলে। বিনিময়ে দাবিকৃত অর্থ না পেলে অশ্লীল ছবি বা লেখা পোস্ট করার ভয় দেখাতো। এভাবে গত এক বছরে সে অন্তত ৩০ জন মডেল-অভিনেত্রীর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ আদায় করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ধরতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, নিশাত নাওয়ার সালওয়ারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তির সহায়তায় সামিরকে সনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিয়মিত উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও হ্যাকার সামির আল মাসুদ নিজেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিত। ইন্টারনেট ঘেঁটে নানারকম টিউটেরিয়ালের ভিডিও দেখে দেখে সে হ্যাকিং শেখে। তারপর টার্গেট করতে থাকে উঠতি নারী মডেল ও অভিনেত্রীদের। প্রথমে তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট করা মডেল-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিত এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে টার্গেটকৃত ফেসবুক আইডির নামে নকল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা হতো। একই সঙ্গে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে তারকাদের ফেসবুক আইডিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত।

পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সামির আল মাসুদ জানিয়েছেন, টার্গেটকৃতদের কাছ থেকে সে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

সাইবার সিকিউরিটির কর্মকর্তারা জানান, এর আগে অভিনেতা ইরেশ যাকের, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার, মারিয়া নূর, পূজা চেরী, শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেমসহ অনেকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সামির।

এমএস


oranjee