ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

 
 
 
 

জলবায়ু অভিবাসী সমস্যা মোকাবিলায় কর্মকৌশল তৈরি করুন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট অভিবাসী সমস্যা সমাধানের যুতসই কর্মকৌশল তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনার পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার স্পেনের রাজধানী ফেরিয়া দে মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল: ভালনারেবল নেশনস কপ-২৫ লিডারস’ শীর্ষক সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায়ের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, কেননা এ স্থানান্তরও একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের মধ্যে হতে পারে যা আমাদেরকেই সমর্থন করতে হবে। সুতরাং, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের স্থানান্তর এবং সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য একটি যুতসই কর্মকৌশল তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানব অভিবাসনের ওপর পড়তে পারে এ বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ইতিমধ্যে সহিংস দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করছে। ধীরস্থিরভাবে সমুদ্র-স্তরের বৃদ্ধি এবং মরুকরণের মতো বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী অনেক কম নজর দেয়া হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই এই ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ ফোরামের (সিভিএফ) নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন আমাদের এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারের দাবিদার সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলো তাদের প্রাপ্য সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সিভিএফ ও ভি-২০ ট্রাস্ট ফান্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নতুন বিশেষ দূত পাওয়া একটি ভালো সফলতা হতে পারে।

সিভিএফ এবং ভি-২০ কে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সহযোগিতার একটি মহৎ উদাহরণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমান সাফল্যের আরও বিকাশ চাই। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছি। এখন আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকির মুখোমুখি হতে চলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন প্রতিটি দেশের জন্য বিশেষত বাংলাদেশের মতো দুর্বল দেশগুলোর জন্য একটি অস্তিত্বের হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকি, প্রভাব এবং তা মোকাবিলার সক্ষমতার অভাবের ওপর ভিত্তি করে দুর্বল দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আমাদের একটি মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন, সমর্থন এবং নিয়মিত বিকাশের ক্ষেত্রে অর্থায়ন কঠোরভাবে আলাদা রাখতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, বেশিরভাগ নির্গমণকারীরা প্রশমনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনীহা প্রকাশ করছে। যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু ব্যবস্থা ধ্বংস করবে এবং বাংলাদেশের মতো দুর্বল দেশকে বিপদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অতএব, আমাদের অকার্যকারিতার জন্য জবাবদিহিতা চাইতে দ্বিধা করা উচিত নয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের অভিযোজন প্রচেষ্টা জোরদার করতে নেদারল্যান্ডসে ২০২০ সালের জলবায়ু অভিযোজন সামিটের দিকে তাকিয়ে আছি। ফোরামের সদস্যরা যদি সম্মত হন তবে বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্ববাসীর জন্য চূড়ান্ত বাস্তবতা হলো জলবায়ু পরিবর্তন। এটি এখন মানবজীবন ও পরিবেশ, বাস্তুসংস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিবর্তনীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যোগ করেন শেখ হাসিনা।

এসময় সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএস


oranjee

আরও খবর :