ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

 
 
 
 

সংসদে ৩০০ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৯

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই ৩০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি। এদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

শনিবার (২২ জুন) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তালিকা প্রকাশ করেন। সিআইবি ডাটাবেইজে রক্ষিত ডিসেম্বর ২০১৮ ভিত্তিক বাংলাদেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপির সংখ্যা থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

একইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এ তালিকায় শীর্ষ ১০ ঋণ খেলাপির মধ্যে আছে- চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার অয়েল (এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা), গাজীপুরের গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং (৯৮৪ কোটি), ঢাকা সাভারের রিমেক্স ফুটওয়্যার (৯৭৬ কোটি), ঢাকার কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম (৮২৮ কোটি), চট্টগ্রামের মাহিন এন্টারপ্রাইজ (৮২৫ কোটি), ঢাকার রূপালী কম্পোজিট (৭৯৮ কোটি), ঢাকার ক্রিসেন্ট লেদার ওয়্যার (৭৭৬ কোটি), চট্টগ্রামের এস এ অয়েল রিফাইনারি (৭০৭ কোটি), গাজীপুরের সুপ্রভ কম্পোজিট নিট (৬১০ কোটি), গ্রামীণ শক্তি (৬০১ কোটি)।

শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আছে ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১৭ জন। তাদের নেওয়া ঋণের মোট পরিমাণ ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এদের মোট ঋণের মধ্যে বড় একটি অংশ খেলাপি রয়েছে। এর পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

গত ৩৮ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন।

সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খান (ওয়ার্কার্স পার্টি) তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলেও ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের অক্টোবরে আগের সময়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান। ফলে লুৎফুন নেসার প্রশ্নের জবাবে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই এ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি ও তাদের ঋণের পরিমাণ সংসদকে জানানো হয়েছে।

এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সেপেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

এমএস


oranjee

আরও খবর :